বিয়ের তিন মাসের মাথায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

0 53

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় যৌতুকের টাকার জন্য শাবনুর আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ি ও ননদকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের পাঁচ নং ওয়ার্ডের নলের চরের রহমতপুর গ্রামের বাহার মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাবনুর আক্তার উপজেলার হরণি ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের বয়ারচর নবীনগর গ্রামের নূর ইসলাম বুদ্ধির মেয়ে।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম জানান, তিন মাস আগে রহমতপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী বাহার মিস্ত্রির ছেলে ফরিদ উদ্দিনের (২৪) সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি ছিল। বিয়ের পর থেকে ওই যৌতুকের টাকার জন্য ও ঘরের আসবাবপত্রের জন্য শাবনুরকে একাধিকবার মারধর করেন ফরিদ। শুক্রবার সকালে মোরগকে খাবার দেওয়া নিয়ে শাবনুরের সঙ্গে তার শাশুড়ি ও ননদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে যৌতুক প্রসঙ্গ টেনেও তার সঙ্গে ঝগড়া করেন তারা। একপর্যায়ে স্বামী, শাশুড়ি আর ননদ মিলে শাবনুরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। এসময় পেটে লাথি লাগলে শাবনুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে শাবনুর বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করেন ফরিদ। একপর্যায়ে নিহতের খালু আবুল কালাম ও তার খালা শাবনুরের শ্বশুর বাড়িতে এলে নিহতের স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।

নিহতের খালু আবুল কালাম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ি ও ননদকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ি ও ননদকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।