বিদেশির টাকা-বিমান টিকিট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কোম্পানীগঞ্জের ২ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

0 ১০

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বেড়াতে আসা আরব আমিরাতের নাগরিক ব্যবসায়ী আলী আহামেদ ও স্থানীয় দুই দুবাই প্রবাসীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকাসহ বিমানের টিকিট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ থানার দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রবাসী ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফাতেমা বেগম এবং তার বড় ভাই দেলোয়ার আনসারকে ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপারে কাছে অভিযোগ জানানোর পর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের খাঁন পাড়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম তার বড় ভাই দেলোয়ার আনসার ও স্বামীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের সাজ্জা সিটিতে ওই দেশের নাগরিক আলী আহামেদের (৬০) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছেন।

ফাতেমা বেগম ও তার স্বজন শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা চলতি মাসের প্রথম দিকে দেশে আসার সময় তাদের কফিল (মালিক) আলী আহামেদও বাংলাদেশ ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সে অনুযায়ী গত ৩ নভেম্বর ফাতেমা বেগম ও তার পরিবারের সঙ্গে আলী আহামেদ কোম্পানীগঞ্জে বেড়াতে আসেন। সেখানে তারা একটি বাড়ি ভাড়া নেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ফাতেমা বেগমের বাসায় গিয়ে তারা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন বলে আলী আহামেদের লাল পাসপোর্ট ও তাদের বিমানের ফিরতি টিকিট দেখতে চান কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেন। এরপর এসআই জাকির তাদের বিমানের টিকিট নিয়ে যান এবং থানায় দেখা করতে বলেন। এ ঘটনার ৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ফাতেমা বেগমের বাসায় যান কোম্পানীগঞ্জ থানার আরেক এসআই শিশির।

ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এসআই শিশির ঘরে ঢুকে আরব আমিরাতের নাগরিক আলী আহামেদ ও তাকে জড়িয়ে অশালীন কথা বলেন। এক পর্যায়ে তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। পরে শিশিরকে ১২ হাজার টাকা দিলে তিনি চলে যান। এরপর বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জানালে তিনি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী মো. আবদুর রহিমকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নিদের্শ দেন।

ফাতেমা বেগম ও শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কারণে এসআই শিশির ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শুক্রবার সকাল থেকে দফায় দফায় ফাতেমা বেগমের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে এবং মুঠোফোনে তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেন। তা না হলে ফাতেমা বেগম ও তার স্বজনদের মাদক এবং ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এই অবস্থায় বিদেশি এই নাগরিক নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা।

ফাতেমা বেগম বলেন, বিদেশি মেহমান নিয়ে দেশে এসেছি। আগামী ডিসেম্বর আমাদের দুবাই ফিরে যাবার কথা রয়েছে। কিন্তু পুলিশের অব্যাহত হুমকি ও নির্যাতনের ভয়ে ২-১ দিনের মধ্যেই দুবাই ফিরে যাব।

এই ব্যাপারে এসআই জাকির হোসেন ২টি বিমান টিকিট নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা বৈধ না অবৈধভাবে দেশে এসেছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য টিকিটগুলো নিয়েছেন।

তবে এসআই শিশির ওই বাসায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কোনো টাকা নেননি বা তাদের কোনো ধরনের হুমকি দেননি বলে দাবি করেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সদর সার্কেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে প্রবাসী ওই পরিবারকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য লিখিত আকারে জানানোর জন্য বলেছি। তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
Loading...