নোয়াখালীর ঐতিহাসিক নিদর্শন বজরা শাহি মসজিদ ও গান্ধী আশ্রম

577

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী প্রাচীন সমতট জনপদের একাংশ। জেলার আদি নাম ভুলুয়া। পাহাড়ি ঢলে ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভয়াবহ প্লাবনে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রোধে ১৬৬০ সালে নতুন (নোয়া) খাল খনন করে পানি প্রবাহকে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে ধাবিত করা হয়। এর ফলে ভুলুয়া নামটি ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়ে ১৬৬৮ সালে নোয়াখালী হয়ে যায়।

এখানে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিম-ল ছিল। এ অঞ্চলের প্রবাদ-প্রবচন, আঞ্চলিক গান, ধাঁধা ও ছড়া থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, নোয়াখালীর ঐতিহ্য গড়ে ওঠে গ্রিক, পর্তুগিজ, আরবি ও ইংরেজ সভ্যতার মিশ্রণে। সেই ঐতিহ্যের বিভিন্ন কীর্তি নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। জেলাটিতে দর্শনীয় স্থানগুলো যা পর্যটকদের ক্রমাগত আকৃষ্ট করেÑ গান্ধী আশ্রম, বজরা শাহি মসজিদ, লুর্দের রানী গির্জা ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের জন্মস্থান। চলুন ঘুরে আসি এসব স্থান থেকে।
গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী জেলার ৩০ কিলোমিটার দূরে দর্শনীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন।

সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামে আশ্রমটি অবস্থিত। ১৯৪৬ সালের জুলাই-আগস্টে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৭ নভেম্বর চৌমুহনীতে ছুটে আসেন মহাত্মা গান্ধী। ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধী জয়াগ গ্রামে আসেন। এ সময়ে স্থানীয় জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্তকুমার ঘোষ তার দোতলা বাড়িসহ সব সম্পত্তি মহাত্মা গান্ধীকে দান করেন। তিনি তখন প্রতিষ্ঠা করেন অম্বিকা কালীগঙ্গা দাতব্য ট্রাস্ট। সেটি ১৯৭৫ সালে গান্ধী ট্রাস্ট নামে পরিবর্তিত হয়। শুরু থেকেই গান্ধী ট্রাস্ট এ এলাকার মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে আসছে।

এখানে গান্ধীজির নামে একটি জাদুঘর আছে। গান্ধীর ব্যবহৃত সামগ্রী, নোয়াখালী সফরের শতাধিক ছবি ও প্রকাশিত লেখা সংরক্ষিত আছে। সঙ্গে গান্ধীর ভাস্কর্য রয়েছে। নোয়াখালী সদর থেকে সোনাইমুড়ী বাসে গিয়ে সেখান থেকে রিকশায় আধা কিলোমিটার দূরে গান্ধী আশ্রমে যেতে পারেন।

গান্ধী আশ্রমে আসার আগে জয়াগ গ্রামে দেখতে পাবেন দুইটি ঐতিহাসিক মঠ। জয়াগ গ্রামে আরও আছে দেবেন্দ্র মদনমোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি গান্ধী আশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক ঝরনা চৌধুরী সমাজকল্যাণের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদ্মভূষণ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। এখানে কুটিরশিল্পের তৈরি সামগ্রী ও তাঁতবস্ত্র পাবেন। প্রিয়জনের জন্য আনতে পারেন। নিরিবিলি গ্রামীণ পরিবেশে এমন একটি প্রতিষ্ঠান ভালো লাগবে।

গান্ধী আশ্রম দেখা শেষ করে একই উপজেলার বজরা গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন মোগল প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য নিদর্শন বজরা শাহি মসজিদ দেখতে পারেন। নোয়াখালীসহ সমগ্র দেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে এর অবদান রয়েছে। দিল্লির মোগল সম্রাটরা ভারতবর্ষে ৩০০ বছরের অধিককাল রাজত্ব করেন। এ দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য মসজিদ নির্মিত হয়। দিল্লির শাহি মসজিদের আদলে নির্মিত এ বজরা শাহি মসজিদ। আয়তাকার এ মসজিদটি ইটের তৈরি।

এর চার কোনায় চারটি বুরুজ ও পূর্ব দেয়ালে তিনটি প্রবেশপথ আছে। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালেও প্রবেশপথ রয়েছে। পশ্চিম দেয়ালের তিনটি মিহরাবের মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের ওপরের তিনটি গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি বড়। প্রধান প্রবেশপথের ওপরে স্থাপিত শিলালিপি অনুযায়ী মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের আমলে জনৈক আমানউল্লাহ কর্তৃক মসজিদটি ১৭৪১-৪২ সালে নির্মিত।

বেষ্টনী দেয়ালে ও মসজিদের ভেতরের দেয়ালে লাগানো বাংলা ও ফারসি ভাষায় লিখিত শিলালিপি অনুযায়ী বাংলা ১৩১৮ থেকে ১৩৩৫ অর্থাৎ ১৯১১-১৯২৮ সালের মধ্যে বজরার জমিদার খানবাহাদুর আলী আহমদ এবং খানবাহাদুর মুজীর উদ্দিন আহম্মদ মসজিদটির সংস্কার করেন। মসজিদটি পলেস্তরায় আবৃত ছিল। সংস্কার করার সময় মসজিদের পুরো দেয়াল চীনা মাটির পাত্রের টুকরা দিয়ে নকশা করা হয়েছে।

জেলা সদর থেকে সোনাইমুড়ীগামী যে কোনো বাসে বজরা হাসপাতালের সামনে নেমে হেঁটে বজরা শাহি মসজিদে যাওয়া যায়। এখানে একটি দীঘি রয়েছে ৩০ একর জমির ওপর। মসজিদ দেখে বাগপাচড়া (বর্তমান নতুন রুহুল আমিন নগর) গ্রামে যেতে পারেন।

১৯৩৪ সালে এখানেই জন্ম নেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন। এ গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার রয়েছে। সোনাইমুড়ী উপজেলা থেকে রিকশা বা বেবিট্যাক্সিতে এখানে যাওয়া যায়।

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী কোর্টের কেন্দ্রস্থলে জেলা প্রশাসকের বাসভবন থেকে মাত্র ২০০ গজ পূর্ব-উত্তরে অবস্থিত ফকির ছাড়– মিজি (রহ.) এর দরগাহ। দরগাহ স্থাপনের সঠিক সময়কাল জানা যায়নি। জানা যায়, এ অঞ্চল একসময় বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল।

ফকির ছাড়– মিজি (রহ.) একাকী এখানে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। কোনো সাপ, বাঘ বা হিংস্র প্রাণী তার ক্ষতি করত না। ব্রিটিশ আমলে এতদঞ্চলের জমিদার রায় বাহাদুর এ ফকিরের অলৌকিক ক্ষমতা দেখে মাজারের জন্য কিছু জমি দান করেন। ২০০ বছর পুরনো এ মাজার। প্রতি বছর পহেলা মাঘ এখানে বিরাট মেলা হয়।
জেলা শহরে আছে কোর্ট দীঘি, পীর কামেল মহিউদ্দীন হুজুরের মাজার, ঘোড়দৌড়ের মাঠ, বড় বড় দীঘি ইত্যাদি।

অনিন্দ্য সুন্দর বাগানবাগিচা। রাস্তার দুই পাশে ঝাউয়ের সারি। নারকেল গাছও প্রচুর পাবেন। সদর উপজেলার সোনাপুরে ১৯৫৯ সালে লুর্দের রানীর নামানুসারে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উপাসনালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শান্ত-স্নিগ্ধ ছায়াঢাকা পরিবেশ চার্চটিকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর।

চার্চে খ্রিস্টানদের কবরস্থান, যিশুখ্রিস্টের একটি বিশালাকৃতির স্ট্যাচু, ফুলের বাগান, শান বাঁধানো ঘাট, তিনটি বিশালাকৃতির পুকুর, একটি মিশন স্কুল, দাতব্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হস্তশিল্প কেন্দ্র রয়েছে।

প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী আসে দেখার জন্য। গির্জার ভেতরে সবুজ ঘাস, লম্বা ঝাউগাছ মনে হবে যেন ঘন সবুজের দেশ। পুকুরপাড়ে পড়ন্ত বিকালে বসে থাকতে ভালো লাগবে। প্রায় ৪০০ বছর আগে পর্তুগিজরা নোয়াখালী এলাকায় প্রথম গির্জা নির্মাণ করে। কিন্তু নদীভাঙনের ফলে গির্জাটি স্থানান্তরিত করা হয় এখানে।

নোয়াখালী যেতে সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বিলাস, সি লাইন, হিমাচল, ইকোনো, ভিআইপি, শাহি প্রভৃতি পরিবহন নোয়াখালী যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে আন্তঃনগর ট্রেন উপকূল এক্সপ্রেস সরাসরি নোয়াখালী যায়।

নোয়াখালী থাকতে হলে প্রধান সড়কে হোটেল রাফসান, কাজী কলোনি এলাকায় আল আমিন গেস্ট হাউসসহ কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। রয়েছে পুবালি, লিটন, মিজান, কাকলি, লক্ষ্মী, রয়্যাল, আল ফারহান, হোটেল আল মোরশেদ, গুডহিল কমপ্লেক্স, সাথী, সুগন্ধা প্রভৃতি। এছাড়া সরকারি সার্কিট হাউস, বন বিভাগ, গণপূর্ত, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো রয়েছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে বাতাসে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে থাকে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লামচর গ্রামের সর্দার বাড়ি সংলগ্ন ডোবায় অর্ধগলিত একটি মরদেহ দেখতে পায় তারা।

চাটখিলে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বেলায়েত হোসেন আশা করেন দলীয় নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সর্বসাধারনের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে চাটখিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

চাটখিলে সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলায়েত এর মতবিনিময়

নোয়াখালীর চাটখিলে কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে চাটখিল উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে চাটখিল কামিল মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি সাংবাদিক মেহেদী হাছান রুবেল ভুঁইয়া’র পৃষ্ঠপোষকতায় ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাটখিলে কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

তিনি দেশবাসীকে মাতৃভাষায় বুঝে বুঝে কুরআন পাঠের আহ্বান জানান।

সারাদেশে অর্থসহ কুরআন পাঠ দিবস পালিত

Comments are closed.