চাটখিলের হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ, ভোগান্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। খাজনার তালিকা প্রদর্শন না করা এবং আদায়ের বিপরীতে রসিদ না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বাজারে পণ্য কেনাবেচা করতে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাটখিল পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের অধীনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৭ থেকে ২৮টি হাটবাজার রয়েছে। প্রতিবছর পৌর এলাকার বাজারগুলো পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের আওতাধীন বাজারগুলো উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, খাজনা আদায়ের জন্য সরকার নির্ধারিত তালিকা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শনের কথা থাকলেও অনেক বাজারে তা দেখা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত তালিকা অনুসরণ না করে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার বিপরীতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও মূল ইজারাদার অন্যদের কাছে বাজারের দায়িত্ব বা উপ-ইজারা হস্তান্তর করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। খাজনার রসিদ কিংবা নির্ধারিত তালিকা দেখতে চাইলে আদায়কারীদের সঙ্গে বিরোধ এবং হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
চাটখিল পৌর বাজার, খিলপাড়া, শাহপুর, সোমপাড়া, দশঘরিয়া, বদলকোট, কাঁচারিবাজার, পাঁচগাঁও, কড়িহাটি ও কামালপুরসহ বিভিন্ন বাজারে হাঁস-মুরগি, কবুতর, মাছ, মাংস, দুধ, শাকসবজি এবং গবাদিপশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হাঁস-মুরগি ও কবুতর বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্যের ১০ শতাংশ পর্যন্ত, গরু-ছাগল বিক্রিতে ৮ থেকে ১০ শতাংশ এবং মাছ, মাংস, দুধ ও সবজির বাজারে ব্যক্তি বা পণ্যভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাজারে পণ্য ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রেও ছোট-বড় যানবাহন থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাছের আড়তে প্রতি খারি ইলিশের জন্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং দেশি মাছের প্রতি খারিতে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খিলপাড়া বাজারে ইলিশ মাছ বিক্রি করতে আসা কাশেম অভিযোগ করেন, তাঁর কাছ থেকে প্রতি খারি ইলিশের জন্য ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, অমরপুর গ্রামের সামছু নামের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, তাঁর কাছ থেকে মুরগি বিক্রির বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে খাজনা আদায় করা হয়েছে। খাজনার তালিকা ও রসিদ চাইতে গিয়ে তিনি আদায়কারীর কাছে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কয়েকজন ইজারাদারের বক্তব্য, বেশি দামে বাজার ইজারা নেওয়ায় তাঁরা নিজেদের মতো করে খাজনা আদায় করছেন। তবে সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে খাজনা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, শিগগিরই ইজারাদারদের ডেকে বাজারে খাজনার তালিকা প্রদর্শন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খাজনা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইজারাদারদের অনিয়ম বন্ধে হাটবাজারগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
