৩৯ বছর আগের এই দিনটি কেমন ছিল, জানালেন কনকচাঁপা

165

দেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। গানের পাশাপাশি এ শিল্পীর রয়েছে একাধিক প্রতিভা।

 

মঙ্গলবার (০৫ ডিসেম্বর) তেমনই একটি লেখা অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নিলেন এই সঙ্গীতশিল্পী। সঙ্গে যুক্ত করেছেন একটি পুরনো ছবি। আর এর ক্যাপশনের লেখাটি স্মৃতিচারণমূলক লেখা। যা কনকচাঁপা খোলাসা করেছেন লেখাটির শিরোনামে।

কনকচাঁপা তার লেখার শিরোনাম দিলেন এভাবে- ‘১৯৮৪ সালের পাঁচই ডিসেম্বর! ৩৯ বছর আগের এই দিনের গল্প!’

১৯৮৪ সালের ০৫ ডিসেম্বর ছিল কনকচাঁপার জীবনে বিশেষ দিন। বিষয়টি উল্লেখ করে এই গায়িকার লেখনিতে উঠে এলো- সেদিন আমার গায়ে হলুদ ছিলো। আমি জন্মগত ভাবেই একই সঙ্গে অপরিপক্ক আবার পরিপক্ক ছিলাম, ছিলাম বা আছি ইন্ট্রোভার্ট আবার এক্সট্রোভার্ট! অনেক কিছু বুঝতাম আবার অনেক কিছু বুঝতাম না।

ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে হয়েছিল কনকচাঁপার। বিষয়টি জানিয়ে তিনি লেখেন, বিয়ে হচ্ছে এতে যত না খুশি তারচেয়ে বিয়ের কন্যা সাজতে পারছি এটাই ছিল যেন বেশি আনন্দের। খুব ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে হয়েছিল।

ছবিটির বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি লেখেন, যেখানে বসে আছি ওটা আমার শোবার খাট। অর্ধেক বাঁশের বেড়া আর অর্ধেক টিন দিয়ে গড়া বাবার নিজের বাড়ি। বিছানার দুপাশে দুটি জানালা ছিল। দক্ষিণ ও পশ্চিম এর জানালা, এখান দিয়েই কত আকাশ দেখেছি, কত স্বপ্ন এঁকেছি, জানালার পাশেই জলটলটলে পুকুরে ডুবসাঁতার খেলেছি, বেড়ার ফাঁকের আলোর ফুলের সঙ্গে কত খেলেছি অথবা সেই আলোর নাচন আমাকে ভোরবেলা জাগিয়ে দিয়েছে। পশ্চিম দিকের পুকুরে ডুব দিলে আমার বিশাল চুল ছড়িয়ে ভেসে চুলের ফুল তৈরি হতো, এখনকার দিনে হলে দ্রোন দিয়ে ছবি তোলা যেতো কিন্তু তখনই আমি তা কল্পনায় দেখেছি, আহা!

স্মৃতি রোমন্থন করে কনকাচাঁপা আরও যুক্ত করেছেন এভাবে, শাল কাঠের খুঁটিতে হলুদ লাল কাগজ আমার নিজের হাতে আঁঠা দিয়ে লাগানো। বিয়ে হচ্ছে এজন্য কোন লাজলজ্জার বালাই ছিল না। বরং দুশ্চিন্তা ছিল আমাকে সাজানোর জন্য ফুল পাওয়া যাবে কই! হলুদে যে গান গায় সেই গানও কেউ পারে না। গায়ে হলুদের দিন সকালে রত্নাপা কয়েকজনকে শিখাচ্ছিলেন। তাতেও ভুল হচ্ছিল দেখে আমি গলা মিলাচ্ছিলাম। পারুল আপা যতই ধমক দিয়ে আমাকে থামিয়ে দেন আমি ততই জোরে গাই, কি যন্ত্রণা! শেষে আম্মা বললেন ওই পাগলী গাক, তোরা কিছু বলিস না, কি হবে গাইলে!

গায়ে হলুদের গোসলের সময় কান্নাও করেছিলেন কনকাচাঁপা। সেই স্মৃতি লেখতেও ভুললেন না গুণী এই গায়িকা। তিনি লেখেন, হলুদ মাখিয়ে যখন খালা-বোনরা ফুল ভেজানো পানিতে গোসল করাচ্ছিলেন তখনই প্রথম আমার কান্না পেলো। গোসলের পানির ভেতরেই কেঁদে নিলাম আরাম করে। কারণ কেউ তা টের পেলো না। সে কান্না বিয়ের জন্য নয়, প্রমিজ আমি কাঁদছিলাম আমার দ্বিতীয় গোসলের জন্য! ভাবছিলাম যে আমার জীবনে বাদ রইলো শেষ গোসল!

তবে কান্না বা মন খারাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, উল্লেখ করে কনকচাঁপা লেখেন, কিছুক্ষণ পরেই মন খারাপ কেটে গেলো। জুবলী মামী চুল আঁচড়ে শুকিয়ে দিচ্ছিলেন। খুবই আশ্চর্য যে ক্যামেরার এই রীলে শুধু এই ছবিটিই পাওয়া গেছে। আর সব ছবি হাওয়া। রাতে মামী, রত্নাপা, আর শিরী খালাম্মা হাতে ঝাঁটার কাঠির ডগায় বাটা মেন্দি লাগিয়ে ফুল লতাপাতা এঁকে দিচ্ছিলেন। তাকে ফুল লতাপাতা না বলে কাকের ঠ্যাং বকের পাখনা বলাই ভালো। সেই মেন্দির ডিজাইন দেখে মনে হচ্ছিল বিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাই। কিন্তু আবার এখনকার বিয়ের কন্যাদের অর্থাৎ সিমেন্টের বউ অথবা আটা-ময়দা-সুজির বউদের দেখলে মনে হয় ওই সরল আঁকা মেন্দির ফুলে কতই না আশীর্বাদ লুকানো ছিল!

সবশেষে গায়ে হলুদের ছবিটি হীরার চেয়ে দাবি উল্লেখ করে কনকচাঁপা লেখেন, বয়স আমার হয়েছে ভালোই, নানি-দাদী ও হয়ে গেছি- আলহামদুলিল্লাহ কিন্তু খুব সুন্দর করে গায়ে হলুদের সাজ সাজার আফসোস আমার রয়েই গেছে। জীবন ও একটাই, বিয়েও একবারই। তারপর ও এই একটি ছবিই আমার কাছে হীরার মতো দামী।

প্রসঙ্গত, বাংলা সিনেমার গানে কনকচাঁপা একটা অধ্যায়ের নাম। ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘তুমি আমার এমনই একজন’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’… কনকচাঁপার গলা থেকে বাংলাদেশের মানুষের মুখে মুখে সয়লাব হয়ে যাওয়া এসব গানের তালিকা দীর্ঘ।

১৯৮৪ সালে বিয়ে সুরকার ও সংগীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খানকে। কনকচাঁপার কিশোর বয়স থেকেই মইনুল ইসলাম খানের সঙ্গে পরিচয়। বিটিভির ‘নতুন কুঁড়ি’র শিল্পী ছিলেন কনকচাঁপা। সেখানেই দুজনের দেখা-সাক্ষাৎ হতো। কনকচাঁপার প্রথম গাওয়া গানের সুরকার ছিলেন সুরকার ও সংগীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খান। প্রথম গাওয়া গানের সুরের প্রেমে পড়েছিলেন কনকচাঁপা। একসময় সুর থেকে সুরকারের প্রতি ভালো লাগা অনুভব করেন। পরবর্তী সময়ে পারিবারিকভাবে তাদের দুজনের বিয়ে হয়।

আরও পড়ুন

বিশেষ মেহমান হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিএম এর নোয়াখালী জেলার সভাপতি ডাঃ এম এ নোমান,চাটখিল কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মেহেদী হাছান রুবেল ভূঁইয়া।

চাটখিলে ডিয়ার ছোয়াদ এজেন্সির হজ্জ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি মো.মেহেদী হাছান (রুবেল ভূঁইয়া) উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে প্রতিষ্ঠানের চলমান উন্নয়ন এবং মাঠ সম্প্রসারণের কাজ সম্পর্কে অবগত করেন এবং মাদ্রাসা ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখান।

চাটখিল কামিল মাদ্রাসার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন-এইচ এম ইব্রাহিম

মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি মো.মেহেদী হাছান রুবেল ভূঁইয়া বলেন,ঐতিহ্যবাহী চাটখিল কামিল মাদ্রাসা একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান।জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪ এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

চাটখিল কামিল মাদ্রাসা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে বাতাসে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে থাকে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লামচর গ্রামের সর্দার বাড়ি সংলগ্ন ডোবায় অর্ধগলিত একটি মরদেহ দেখতে পায় তারা।

চাটখিলে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বেলায়েত হোসেন আশা করেন দলীয় নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সর্বসাধারনের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে চাটখিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

চাটখিলে সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলায়েত এর মতবিনিময়

Comments are closed.