২০ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে বন্ধ ফেনী-নোয়াখালী চারলেনের কাজ!

৭৪৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

0 ১৯০

সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্থ হল ফেনীতে। কাজের শুরুতে হোঁচট খেল ফেনী- নোয়াখালী চার লেন সড়কের উন্নীতকরণের ৭৪৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, ফেনীর সিন্ডিকেট সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত ২০ কোটি টাকা না দিলে কাজ করতে দেয়া হবেনা বলে হুমকি প্রদান করে। অন্যথায় আলোর মুখ দেখবে না প্রকল্পটি। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে প্রকল্পের কাজ। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোন ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা করে আতংক ছড়িয়ে দেয় দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বান্দের গোড়া নামক স্থানে। পরবর্তীতে মাতুভূঞা নামক স্থানেও হামলা চালায় সন্ত্রাসী বাহীনি। ২ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমবি কন্সট্রাকশন এখানে প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

জানা যায়, ৪০/৫০ জনের সন্ত্রাসী গ্রুপ রাতে একই প্রকল্পের শ্রমিকদের উপর হামলা করে ও পেটায়। পরদিন রাতে শ্রমিকদের অস্থায়ী আবাস দাগনভূঞার বেকের বাজার পল্লী চিকিৎসক সায়েমের বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় অমানুসিকভাবে দ্বিতীয়বার পেটানোর অভিযোগ করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রত্যক্ষদশীরা আরও জানায়, এই সন্ত্রাসী হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল মাতুভূঞা ইউনিয়নের ফারুক ও সাদ্দাম। পরপর দুইদিনের হামলা ও মারধরের ফলে শ্রমিক ও নির্মান প্রতিষ্ঠান প্রাণভয়ে পালিয়ে যায়। উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়ে। এ বিষয়ে এলাকাবাসি, শ্রমিক ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কেউই ভয়ে মুখ খুলছে না। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০ মিটার প্রশ্রস্ত ২৯.২৮ কিমি সড়কের নির্মাণ কাজ পায় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফেনীর মহিপাল হতে নোয়াখালী জেলার সীমান্তবর্তী বাজার সেবার হাট পর্যন্ত ১৭ কিমি কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনবি কন্সট্রাকশন। এ অংশের মোট প্রকল্প ব্যয় ৩শ ৯৮ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। সেবারহাট হতে নোয়াখালীর চৌমুহনী পূর্ব বাজার পর্যন্ত ১২.২৮ কিমি নির্মাণের কাজ পায় ফেনীর ঠিকাদার সালেহ বাবুল।কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের কোন ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয়রা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবী করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

ফেনী সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফেনী অংশে দুটি সেতু, নয়টি কালভার্ট, দুটি বাস-বে টার্মিনাল, একটি ফুটওভার ব্রিজ ও একটি ইন্টারসেকশন (গোলচত্বর) নির্মাণ করা হবে। সেতু দুটির একটি মাতুভূঞা সেতু, আরেকটি সিলোনিয়া সেতু। এছাড়া ইন্টারসেকশন, ফুটওভারব্রিজ ও দুটি বাস-বে টার্মিনাল নির্মাণ করার কথা রয়েছে দাগনভূঞা বাজার অংশে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।