সোনাইমুড়ী উপজেলা ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না!

তহশিলদার তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠালে নাজির জসিম উদ্দিন ফাইলটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাম ভাঙিয়ে নথি আটকিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। পরে দর কষাকষির এক পর্যায়ে বৃদ্ধ বদিউজ্জামান ওরফে বদু মিয়া ১৫ হাজার টাকা দেয়। ঘুষের টাকা দেওয়ার পরেও ঐ বৃদ্ধকে কাগজপত্রে ত্রুটির বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘ এক বছর ঘুরাতে থাকে।

0 295

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা ভূমি অফিস ও ৯টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না। এ অফিসগুলোতে তাদের নিয়োগকৃত দালাল রয়েছে। এসব ঘুষের টাকা ঐ দালালদের মাধ্যমে নিয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাওতোলা গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের পুত্র বৃদ্ধ বদিউজ্জামান ওরফে বদু মিয়া বিগত ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ২২৭ দাগে ও ২৩১ দাগে ২১ শতাংশ ভূমির খাজনা পরিশোধ করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাছে আবেদন করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে সরেজমিনে ও কাগজপত্র যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তহশিলদার তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠালে নাজির জসিম উদ্দিন ফাইলটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাম ভাঙিয়ে নথি আটকিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। পরে দর কষাকষির এক পর্যায়ে বৃদ্ধ বদিউজ্জামান ওরফে বদু মিয়া ১৫ হাজার টাকা দেয়। ঘুষের টাকা দেওয়ার পরেও ঐ বৃদ্ধকে কাগজপত্রে ত্রুটির বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘ এক বছর ঘুরাতে থাকে। পরে স্থানীয় এক ক্ষমতাশীন দলের নেতার কারণে খাজনা নেয়। উপজেলার বরলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, তার বাড়ির ৪ শতাংশ জমিন নামজারি করতে উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন। তার নথি নং ১১৭৩। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বাক্ষর করে পৌর তহশিলদার আবদুল মতিনকে কাগজপত্র ও দখল যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এরপরই শুরু হয় ঘুষের ছড়াছড়ি। পৌর তহশিলদার আবদুল মতিন কাগজপত্রে ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। পরে দর কষাকষির এক পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা দিলে তহশিলদার বিগত ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিবেদন দাখিল করেন। উপজেলা ভূমি অফিসে নথি যাওয়ার পর নাজির জসিম উদ্দিন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো, সার্ভেয়ার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত প্রতিবেদন করিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আরো ৮ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ৬ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ৬ হাজার টাকা দিলেও এখনো নামজারি হয়নি। উপজেলার বজরা গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার পুত্র আজহর মিয়া অভিযোগ করে জানান, তার বাড়ির ২৯.২৫ শতাংশ জমিনের নামজারি করতে উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন। প্রত্যেকটি টেবিলে নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ দেয়ার পর বিগত ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার খতিয়ান সৃজন হয়। উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির জসিম উদ্দিন বিসিআর ফি ১১৫০ টাকা হলেও ১৮ শত টাকা দেয়ার পরও ১ বছরেও বিসিআর দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগি অভিযোগ করে জানান, উপজেলা ভূমি অফিসে ১টি জমাখারিজ করতে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আর কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর। কানুনগো শুভ্রত দেওয়ান, সার্ভেয়ার সোহেল রানা, ১টি পৌর তহশিলদার, ৮টি ইউনিয়ন তহশিলদারসহ অন্যান্য কর্মচারীরা এসব ঘুষের টাকার ভাগ পান বলে জানা গেছে। সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা হক জানান, কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।