সোনাইমুড়ীতে হিজবুত তাওহিদের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা আটক
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিজবুত তাওহিদের করা মামলায় সুমন নামের এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার চাষির হাট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে সুমনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, সুমন পোরকরা গ্রামের হাবিব উল্যাহ পেশকার বাড়ির রফিক উল্যার ছেলে। সে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ও চৌমুহনী এসএ কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র। শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা সুমন নিজ বাড়ি থেকে আত্মীয়র বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌছালে সোনাইমুড়ী থানার এসআই আজমগীরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে আটক করে।
এদিকে ছাত্রলীগ নেতা সুমনকে আটক করায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জানান, গত কয়েকবছর ধরে হিজবুত তাওহীদের দেওয়া মামলায় অনেক নিরীহ ছাত্রলীগ,যুবলীগ নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়ে আসছে। জেল-হাজতের ভয়ে অনেক নেতাকর্মী দিচ্ছে বিদেশ পাড়ি। এমন চলতে থাকলে এ অঞ্চলে আওয়ামীলীগ অস্তিত্ব হারাবে। তারা হিজবুত তাওহীদের মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন।
থানার ওসি আবদুস সামাদ জানান, সুমন জিআর ৮১২/১৬ মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী। তাই তাকে আটক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত ; বিগত ২০০৯ সালে হিজবুত তাওহীদ নামক সংগঠনের লোকজনের চলাফেরা সন্দেহজনক দেখে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এ সংগঠনটির অন্যতম নেতা উপজেলার পোরকরা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে গ্রামবাসীর উপর অতর্কিতভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা প্রায় ২০০ গ্রামবাসীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ১৪০জন হিজবুত তাওহীদের নারী-পুরুষ সদস্যকে আটক করে। তাদের বসতবাড়ীতে তল্লাশি চালিয়ে মুখোশ, ছোরা, গান পাউডার উদ্ধার করে।
বিগত ২০১৪ সালে ঐ গ্রামে মসজিদ থাকা অবস্থায়ও আবারও ঐ সংগঠনের সদস্যরা উপজেলার পোরকরা গ্রামের নুরুল হকের বাড়ীতে মসজিদের নামে ঘর নির্মাণ করেছিল। এখানে বহিরাগত লোকজনকে একত্রিত করে বিভিন্ন ধরণের কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল। এসময় গ্রামের মুসল্লীরা বাধা দিলে গ্রামবাসী ও হিজবুত তাওহীদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে হিজবুত তাওহীদের ২ সদস্য ও ১ গ্রামবাসী নিহতসহ অন্তত ৫ শতাধিক লোকজন আহত হয়। পরে হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় ও কোর্টে প্রায় ৫ হাজার গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ প্রায় ৭টি মামলা দেয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের হাজার হাজার নিরীহ জনগণ এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
