মুক্তিপণ দেয়ার পর পাওয়া গেল বস্তাবন্দির শিশুর লাশ

0 230

নগরীর ডেমরায় অপহরণের দুই দিন পরে মো. মনিরুল ইসলাম (৭) নামে এক ছেলে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। সোমবার বিকালে ডেমরার বাঁশেরপুল ডগাইর এলাকার নূরে আয়েশা সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার নির্মাণাধীন মসজিদ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত মনিরুল ইসলাম ওই মাদ্রাসার ছাত্র ও ডেমরার ডগাইর নতুনপাড়া এলাকার সামসু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. সাইদুল হকের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ী বি-বাড়িয়ার শরাইল থানার বিটগর গ্রামে। এ ঘটনায় ওই মসজিদের ঈমামসহ তার ছেলে ও মসজিদের মুয়াজ্জিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

মৃতের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও ডেমরা থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৭টায় মনিরুল যথারীতি মাদ্রাসায় যায়। তারপর থেকেই ছেলেটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় মৃতের পরিবার রোববার রাতে এলাকায় মাইকিং করেন। পরে ওই দিন রাত ৮টার দিকে মৃতের বাবার কাছে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। এ সময় অপরহরণকারী মনিরুলের বাবার কাছে তার মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। আর দাবিকৃত টাকা ওই মসজিদের খাটিয়ার নিচে রাখতে বলেন।

আরো জানা যায়, রোববার দিনগত রাত ২টার দিকে বাবা সাইদুল হক তার ভাইসহ নূরে আয়েশা সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার ঈমামের কাছে এক লাখ টাকা রেখে আসেন। এ সময় তারা ঈমামের কাছে সব ঘটনা খুলে বলেন, যাতে টাকা নেয়ার সময় ঈমাম অপহরণকারীকে চিনতে পারেন। তবে ওই রাতে অপহরণকারীরা টাকা নিতে আসেনি। এ ঘটনায় সোমবার বিকালে কালবৈশাখী ঝড়ের পর অপহরণকারীরা মৃতের বাবার মোবাইলে ফোন করে ছেলের লাশের খবর জানায়। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ওই মসজিদের দোতলার সিঁড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির মুখ দিয়ে রক্ত দেখা গেছে। তার পরনে ছিল সাদা-নীল রঙের ছাপা পাঞ্জাবি ও ফুল প্যান্ট।

এ ঘটনায় ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার সন্ধার পরে এলাকার শত শত মানুষ শিশু মনিরুল ইসলাম হত্যায় খুনির ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

এ বিষয়ে ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ নগরীর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে অবশ্যই হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা, অতঃপর গণধোলাই

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চলন্ত বাসে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের চেষ্টাকারীসহ গাড়ির চালক ও হেলপারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় এলাকায় রজনীগন্ধা পরিবহনে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন শাহ পারভেজ।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী সন্ধ্যার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড় মৌচাক থেকে শিমরাইল মোড় যাওয়ার জন্য রজনীগন্ধা পরিবহনে ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-১৮৪৯নং বাসে উঠে। বাসটি মহাসড়কের শিমরাইল ইউটার্ন (ডাচবাংলা ব্যাংক) এলাকায় সকল যাত্রী নেমে যায়। তবে মেয়েটি শিমরাইল মোড়ের ফুটওভার ব্রীজে নামার জন্য বাসের হেলপারকে বলে। এসময় সোলেমান (২২) নামে যুবক মেয়ে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

চিৎকার করতে চাইলে মেয়েটির গলা টিপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সোলেমান। এসময় গাড়ি কাঁচপুর সেতুর নিচে নিয়ে গেলে মেয়ের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন সাহায্যে এগিয়ে আসে। তারা ধর্ষণের চেষ্টাকারী সোলেমান, গাড়ির চালক হাবিবুর রহমান (৪২) ও হেলপার জয়কে (২৩) গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ রজনীগন্ধা পরিবহনের ওই বাসটি আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মীর শাহিন শাহ পারভেজ

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।