ভিক্ষা ছেড়ে লক্ষ্মীপুরে ব্যবসা করছে রাণী
ভিক্ষা ছেড়ে ব্যবসা করছেন স্বামী পরিত্যক্তা ববিতা রাণী (২৬)। অসম্মানজনক এ পেশাটি ছেড়ে দিয়ে লক্ষ্মীপুরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজি বিক্রি করছেন তিনি। যার মাধ্যমে সন্তানকে সুশিক্ষিত ও নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে যাচ্ছে ববিতা। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বলছেন খোঁজ নিয়ে সহযোগিতা করবেন।
চাঁদুপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা ববিতা রাণী। গত ১১ বছর পূর্বে ভারতের বাসিন্দা বেছারামের সাথে তার বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই সুখেই কাটছে তার সংসার। তার আখি ও জয়ন্ত নামে দুই সন্তান রয়েছে। স্বামী গত এক বছর পূর্বে ববিতাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে ভারত চলে যান স্বামী। এরপর জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেঁচে নিয়েছেন তিনি।
ববিতা রাণী বলেন, স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ার পর থেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি। এজন্য জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষা করেছেন। সম্প্রতি লজ্জাজনক পেশা ভিক্ষা ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে শাক-সবজি সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যা হলে জেলার উত্তর তেমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। এখানকার আয় দিয়ে সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করতে চান তিনি। যাতে কখনোই বাঁচার জন্য ভিক্ষা করতে না হয় আদরের সন্তানদের।
শুধু ববিতা নয় লক্ষ্মীপুরের খালেদা ও মঞ্জুমা বেগম ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে শাক বিক্রি করছেন। কথা হলে খালেদা বেগম বলেন, ভিক্ষা করলে খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ৬’শ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো। বর্তমানে সব খরচ বাদে ৪’শ থেকে ৬’শ টাকা আয় হয়। এখানে আয় কম তবুও সুখ আছে।
মঞ্জুমা বেগম বলেন, ভিক্ষা করায় সমাজে ছিল না তাদের সম্মান। বর্তমানে ব্যবসা করায় সবাই তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন। তাদের কাজে খুশি হয়ে ক্রেতারা সবজি ক্রয় করছেন। এখন তার স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসায়ী হওয়ার। এজন্য তিনি সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোহিতা কামনা করেন। এছাড়াও জেলার অন্য ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টিরও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ভিক্ষা ছেড়ে ব্যবসা করা এটি নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। খোঁজ নিয়ে মঞ্জুমাসহ অন্যদের সহযোগিতা করবেন বলে জানান তিনি।