প্রাইভেট সেক্টরের আধিপত্যের যুগে কাঠগড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ঃ একটি পর্যালোচনা

220

আজকাল পত্রিকার পাতায় চোখ রাখলেই পাঠকদের সামনে চলে আসে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন একাডেমিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমস্যাসমূহ। জনগণের করের অর্থে স্থাপিত ও পরিচালিত এই সর্Ÿোচ্চ বিদ্যাপীঠসমূহে ধর্ম, বর্ণ, গ্রোত্র, ভাষা নির্বিশেষে সবার জন্য উচ্চ শিক্ষার দ্বায় উন্মুক্ত থাকবে; দেশ ও সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় ও যথোপযুক্ত মানবসম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে একদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ণ এবং অন্যদিকে দেশের জনগণের জীবনযাত্রা ও সাংস্কৃতিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে; বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে সাধারণ আমজনতার এটি ন্যূনতম প্রত্যাশা। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-রাজনীতির জের থেকে মারামারি, রাষ্ট্রীয় সম্পদে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর এবং ছাত্র হত্যার যে হৃদয় বিদারক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জনগণের করের অর্থ যথাযথ সদ্বব্যবহারে কতটুকু দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে তা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হওয়া পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, আজকের বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান (যে রাষ্ট্রসমূহ ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ বলে পরিচিত ছিলো) এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় রাষ্টসমূহে ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলোকবর্তিতার ভূমিকা পালন করেছে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বস্তুনিষ্ট মূল্যায়নের জন্য দেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু ভূমিকা রাখতে পেরেছে, তা ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সেই ১৮৫৬ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষে আদালত ও সরকারের ভাষা হিসেবে ফারসীয় পরিবর্তে ইংরেজী প্রবর্তনের কারণে ব্রিটিশ সামাজ্যের সর্ববৃহৎ উপনিবেশে শাসন ব্যবস্থা বজায় রাখার জন্য শ্বেতাঙ্গ ইংরেজ সিভিল সার্ভেন্টের পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষিত নেটিভ ভারতীয় তৈরী করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। সেই লক্ষ্যে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতায় ১৮৫৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যদিও ব্রিটিশদের পিতৃভূমি সুদূর ইংল্যান্ডে এর কয়েক শতাব্দী পূর্বেই বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। উদাহরণস্বরূপ অক্সফোর্ড (১১৬৯ খ্রি.), কেমব্রিজ (১২০৯ খ্রি.) ও সেন্টএন্ডুজ (১৪১০ খ্রি.) এর নাম প্রণিধানযোগ্য। ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতক শ্রেণির চুড়ান্ত পরীক্ষায় ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অবর্তীণ হন এবং দুর্ভাগ্যবশত তাদের কেউই সকল বিষয়ে বৈতরণী পার হতে সক্ষম হননি। চুড়ান্ত ফল বিপর্যয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম ঘুচানোর লক্ষ্যে ৬টি বিষয়ের মধ্যে দুটোতে গ্রেস মার্ক দেওয়ায় অবশেষে দুজন পরীক্ষার্থী উর্ত্তীণ হন। এদের মধ্যে শ্রী বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম যিনি পরবর্তীতে বাংলা উপন্যাস রচনায় নতুন যুগের সূচনাকারী হিসেবে পরে ‘সাহিত্য সম্রাট’ উপাধি পান। বঙ্কিমচন্দ্রের পূর্বে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ট বাঙ্গালী সমাজ সংস্কারক পন্ডিত ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং বাংলা সাহিত্যে চতুদর্শপদাবলী কবিতার সংযোজনকারী মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত যথাক্রমে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এবং হিন্দু কলেজে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়নের সুযোগ পান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় কাছাকাছি সময়ে ভারতের অন্যান্য প্রান্তে যথা মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় (১৮৫৭ খ্রি.) দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২২ খ্রি.), বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় (১৮৫৭ খ্রি.) অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক সাধারণ পরিবারের সন্তান এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল থেকে ভারতবর্ষকে মুক্ত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদের মধ্যে রাজাগোপালচারী, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ও শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক অন্যতম।
ইংরেজদের সাম্প্রাদয়িক ভেদ বিচার ও রাজনৈতিক কৌশলের নীল নকশা হিসেবে ভারতবর্ষের সর্ববহৎ প্রদেশ বেঙ্গল প্রেসিডেন্সী দুটো প্রদেশে বিভক্ত হয়। নবগঠিত পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকা তখন কলকাতার তুলনায় একটি মফস্বল শহর মাত্র। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এককালের ব্রিটিশ রাজকর্মচারী (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট) ঢাকার নওয়াব পরিবারের সদস্য স্যার সলিমুল্লাহ ১৯০৬ সালে ভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকা কেন্দ্রিক শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের জন্য ইংরেজ শাসকদের সাথে দরকষাকষি শুরু করেন। নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে এবং স্টাবলীশমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নবাব সলিমুল্লাহর জীবদ্দশায় তাঁর রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট পূর্বাবঙ্গসহ অন্যান্য প্রদেশে তেমন প্রাণের সঞ্চার করতে পারেনি। তদুপরি বঙ্গভঙ্গরোধে ক্রমাগত সহিংস আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে পশ্চাদসরণ করে দুই বঙ্গ একত্রীকরণে বাধ্য হয়। এতদসত্ত্বেও ঢাকাকে কেন্দ্র করে অবিভক্ত বাংলার পূর্বাঞ্চলে শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য যোগ্য মানবসম্পদ তৈরির মানসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবী জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোটি মানুষের স্বপ্ন নিয়ে তার অভিযাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অতি উচ্চমানের মানব সম্পদ সৃষ্টিতে আপোষহীন ভূমিকা গ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পড়াতে আসেন পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধ্যাপকবৃন্দ। ভারতীয় তথা দেশীয় শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে অনেকেই ছিলেন পান্ডিত্য, একাডেমিক যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় শেতাঙ্গ অধ্যাপকদের সাথে তুলনাযোগ্য। তদুপরি উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হতো বিশাল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ও পশ্চিমা খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারী কোন ইংরেজ অধ্যাপককে। ফলশ্রুতিতে, প্রতিষ্ঠার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় এবং গবেষনালব্দ নতুন জ্ঞান সৃষ্ঠিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা পদ্ধতি, ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষার মান বিবেচনায় কেউ কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে আখ্যা দেন।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকা পুনরায় প্রাদেশিক রাজধানীতে উন্নীত হয় সেই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্বির্ভূত হয় দেশের প্রধান থিঙ্ক ট্যাংক হিসেবে। তাই জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি দেশে উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটি পথ প্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, সেই ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, ১৯৫৮ সাল থেকে আইযূবের সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের ছাত্র গণ অভ্যুত্থানের সুতিকাগার ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এতদসত্ত্বেও শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেষ্টার কোন ক্রটি ছিল না। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারীদের অনেকেই পাশ্চাত্যের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় বহুবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রবৃন্দ মেধা তালিকায় ১ম স্থান অর্জন করে। এদের মধ্যে শাহ এম, এস, কিবরিয়া ( ১৯৫৪ খ্রি.), কাজী ফজলুর রহমান (১৯৫৫ খ্রি.) এবং এ বি এম গোলাম মোস্তাফা (১৯৫৬ খ্রি.) অন্যতম। ১৯৭১সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক সরকারের আমলে মোট দাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখলেও ক্ষমতা ও বিলাসী জীবনযাপনের লোভ অনেক ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দকেই আদর্শচ্যুত করে। বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর এহেন বির্পযয়কে ডাকসুর এককালীন ভিপি কিংবদন্তী ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ সেভাবে মূল্যায়ন করছেন, তা অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য। তাঁর ভাষায় “আমাদের সময়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর কোথায় তা চিনতাম না, আজ প্রকৌশল দপ্তরেই ছাত্রনেতাদের টেন্ডার পাওয়ার জন্য নিত্য আনাগোনা।” বিগত নব্বই বছরের পথ পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবিবর্তনের ধারাটি নি¤œগামী হলেও একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিপুল জনসংখ্যারভারে জর্জরিত একটি সল্পোন্নত অর্থনীতির মানব সম্পদের চাহিদা পূরণে অগ্রগণ্য ভুমিকা রেখে চলেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাড়াও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় বাংলাদেশে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৫৪ সালে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি উত্তরবঙ্গের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চ্চায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান পাদপীঠের ভূমিকা পালন করে এসেছে। এর কিছুকাল পরে কৃষি, প্রকৌশল-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৬১ ও ১৯৬২ সালে যথাক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট)। বাংলাদেশের আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নত বীজ উদ্ভাবন তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটবৃন্দ গত অর্ধশতাব্দী ধরে যে অবদান রেখেছে এ তুলনা দক্ষিণ এশিয়ায় বিরল। সর্বদা খাদ্য ঘাটতির দেশ ব্রিটিশ আমলের পূর্ববঙ্গ এবং অধুনা বাংলাদেশে একাধিবার দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বিরাট ট্রাজেডি হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বাংলাদেশ প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মানুষের আহার জোগাড় করতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার নিরলস সাধক বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরাও এই কৃতিত্বের সিংহভাগের দাবীদার। অন্যদিকে, বাংলাদেশে উন্নত প্রকৌশল প্রযুক্তি উদ্ভাবন, আধুনিক স্থাপত্যশৈলী নির্মাণ, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী নালা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, রসায়ন শিল্পের সম্প্রসারণে বুয়েট পথিকৃৎের ভূমিকা পালন করে চলেছে। সাম্প্রতিককালের রাজনৈতিক হানাহানি, ও দুবৃত্তায়ন এই বিশ্ববিদ্যালয় দুটো অর্জনকে খুব বেশী ম্লান করতে পারেনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য সাধারণ উচ্চশিক্ষার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬ খ্রি.), জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০ খ্রি.) ইত্যাদি পরিবেশের প্রতিকুল শক্তিগুলোর সাথে নিরন্তর সংগ্রাম করে দেশের শিক্ষা, বাণিজ্য, ব্যাংকিং ও সিভিল সার্ভিসের জন্য যোগ্য গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে আসছে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্রমবিবর্তনের ধারায় বর্তমানে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সিংহভাগ (শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি) কর্মসংস্থানের আধার হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে। সেই বির্বতনের ধারায় এখানে বিগত শতাব্দীর নব্বই দশকের সংযোজন হলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংকট, উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের ভারতসহ অন্যান্য দেশে গমন, আশির দশকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেশনজট বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়কে বেগবান করে বলে অনেকেই মনে করেন। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন মিটানোর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিগত দুই দশকের অভিযাত্রায় দেশের উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে ৫৪টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ব্ওে আরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আবেদন বাজার অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে সাফল্য দাবী করতেই পারে। তা সত্ত্বেও মুনাফার উদ্দেশ্যকে শিথিল করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে অনীহা, উচ্চ টিউশন ফিসের কারণে দরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের ভর্তির প্রতিবন্ধকতা, কেবলমাত্র কর্মমুখী (Job-Oriented) শিক্ষা প্রদান, এবং অনেক ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি SBU বা strategic business unit হিসেবে গণ্য করার প্রবণতার জন্য অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের সংখ্যাগরিষ্ট দারিদ্র জনগণের উচ্চ শিক্ষার সংকট মোচনে খুব বেশি অবদান রাখতে পারছেনা বলে অনেকই ধারণা করেন। তবে এটি উপেক্ষা করার মত নয় যে, ইদানিং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মধ্যবিত্ত শ্রেণির অভিভাবক সেশনজট, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি ও অস্থিরতা, দেশের কর্মসংস্থান/শ্রম বাজারের সাথে ক্রমবর্ধিষ্ণু দূরত্ব ইত্যাদি কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্তান পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা কাঠামো, প্রশাসনিক ও ভৌত অবকাঠামো এবং সর্বোপরি মিশন, ভিশন ও মূল উদ্দেশ্যের দিক থেকে বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থার তূলনামূলক বিশ্লেষণে অতি সরলীকরণ সম্ভব নয়। তথাপি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে বিগত দুই দশকে ঘটে যাওয়া পরির্বতনগুলো বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে দেশের বিভিন্ন আয়স্তর ও সামাজিক মর্যাদাভূক্ত জনগণের মাঝে নতুন দৃষ্টিভঙ্গীর জন্ম দিয়েছে। অর্থনীতির উদারীকরণ এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকাশমান ধারায় গড়ে উঠা নব্য বণিক তথা উদ্যোক্তা শ্রেণি এর বিদ্যমান ব্যবস্থায় সুবিধাভোগি মধ্যবিত্ত শ্রেণী বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সৃষ্টির ক্ষেত্রে কেবল রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা ও ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে রাজি নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর নিজেদের দাবী আদায়ের চেয়ে মূল রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি, রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ব্যক্তির আনুগত্যকে প্রাধান্য দান, ছাত্র-রাজনীতিকে রাতারাতি বিত্তবান ও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠার সোপান হিসেবে ব্যবহার, একই সংগঠনে অন্তদর্লীয় কোন্দল, প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহিংস সংঘাত থেকে উদ্ভুত ছাত্রহত্যা এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরনে ক্রমাগত ব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট যেমন সেশনজট প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতাকে দৃঢ় করতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। এছাড়াও ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী নির্বাচনের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ না করে সরকারের পছন্দমত নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। অস্বীকার করবোনা, সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যবৃন্দের অনেকেই পান্ডিত্য, জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরাদের অন্যতম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের প্রতি উপাচার্য মহোদয়দের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি নিয়োগ প্রদানকারি সরকারি কর্তৃপক্ষের গুডবুকে থাকা বিশ্ববিদ্যালগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ায় সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাজনৈতিক আর্দশের বদলে ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি থাকা এবং গণতন্ত্রের বদলে গোষ্টীতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির মধ্যে নিঃশব্দে প্রবেশ করেছে। এটি অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আজ সুনির্দিষ্ট আদর্শের শিক্ষক সংগঠনের মনোনীত শিক্ষকবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফোরামের নির্বাচনে সংগঠনের তালিকাভূক্ত শিক্ষকদের সকল ভোট নিজেদের বাক্সে নিশ্চিত করতে পারছেন না। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশের অভাবে একই সংগঠনের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে ব্যাক-বাইটিং শিক্ষক রাজনীতিকে কলূষিত করে তুলেছে। তদুপরি, শিক্ষাদান ও গবেষণার জন্য ন্যুনতম ইনসেন্টিভের অভাব ছাত্রদের নিয়মিত পাঠদানে আগ্রহী শিক্ষকদের হতাশ করে তুলেছে। সেই পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসকদের ক্ষমতায় থাকার টিকে থাকার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দাবিয়ে রাখার নিকৃষ্টতম অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী নেতৃবন্দ ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরগুলোতে স্বাধীন ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তাদের সেই মহৎ চিন্তা ও রূপকল্পের কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা আজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরগুলোর স্টেকহোল্ডারদের নৈব্যক্তিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কয়েক দশক আগেও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজগুলো থেকে দেশের সেরা মেধাবীমুখগুলো উচ্চতম শিক্ষালয়ে পড়ার সুযোগ পেতো। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের চারদশকের মাথায় বিশেষতঃ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিদ্যালয়ের ও কলেজের শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে নীচে নেমে গেছে। কিন্ডার গার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দৌরাত্ম্যে বাংলা মাধ্যমে পরিচালিত সরকারি প্রাথমিক ও হাইস্কুলগুলো তাদের কুলীন মর্যাদা হারিয়েছে। ফলে শহরের প্রান্তিক নাগরিকবৃন্দের ছেলেমেয়েরা তুলনামূলক বিত্তশালী প্রতিবেশির সন্তানের সমান শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। অনেকেই আশংকা করছেন যে, এই ধারা ভবিষ্যতে চলতে থাকলে কিছুকাল পর দেশের সরকারি স্কুল ও কলেজগুলোর মত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্তিত্বের সংকটে পড়বে যা মোটেও অভিপ্রেত নয়। এখনও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষা অর্জনে, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, আয়স্তর ও সামাজিক মর্যাদা নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের অবনয়ন ও অস্তিত্বের সংকট সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত করবে তা বলাই বাহুল্য। তাই দেশ ও জাতির বৃহৎ প্রয়োজনে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উত্তরোত্তর পৃষ্টপোষকতা ও যুগোপযোগি সংস্কার অতীবভাবে জরুরি।
এমতাবস্থায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইমেজ সংকট দূরীকরণ এবং এর যুগোপযোগি সংস্কারের জন্য কয়েকটি সুপারিশ বিবেচনার দাবী রাখে।
প্রথমত : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য সরকারের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আভ্যন্তরীন আয়ের উৎস বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যয় কাঠামোর দিকে নজর দিলে দেখা যাবে যে, মোট ব্যয়ের প্রায় সিংহভাগই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেই ব্যয়িত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটের বাকী অংশ শিক্ষা উন্নয়ণ কার্যক্রম পরিচালনায় একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একজোট হয়ে ছাত্রদের বেতন ও আনুষাঙ্গিক ফিস বাড়ানোর প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারে।
দ্বিতীয়ত : ছাত্র-রাজনীতির অধঃপতি রোধে ছাত্র সংগঠনগুলোকে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হতে হবে এবং এই ছাত্র সংগঠনগুলোর আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী ছাত্রদের কল্যাণ সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে “Job placement office” স্থাপন করা প্রয়োজন। দেশের নিরংকুশ কর্মসংস্থানের উৎস প্রাইভেট সেক্টরের চাহিদামত মানব সম্পদ তৈরির জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের চেম্বারগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।
চতুর্থত : দেশের সবচেয়ে মেধাবী তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করার জন্য শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সংশোধন করা অতীব জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণ সরকারের উপর নির্ভর না করে আভ্যন্তরীন উৎস বাড়িয়ে শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা প্রদান করতে পারে। তদুপরি, শিক্ষক রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার স্বার্থে এবং সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে ব্যক্তিগত সর্ম্পক কাজের উপযোগি করার প্রয়োজনে একাডেমিক পদগুলোতে (যেমন : ফ্যাকাল্টির ডীন) সরাসরি নির্বাচনের পরিবর্তে জ্যেষ্ঠতা অথবা রোটেশনের ভিত্তিতে নিয়োগ করা যেতে পারে।

অধ্যাপক, একাউন্টিং বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

দাখিল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল চাটখিল কামিল মাদ্রাসা।

চাটখিলে দাখিল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি মো.মেহেদী হাছান (রুবেল ভূঁইয়া) উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে প্রতিষ্ঠানের চলমান উন্নয়ন এবং মাঠ সম্প্রসারণের কাজ সম্পর্কে অবগত করেন এবং মাদ্রাসা ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখান।

চাটখিল কামিল মাদ্রাসার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন-এইচ এম ইব্রাহিম

মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি মো.মেহেদী হাছান রুবেল ভূঁইয়া বলেন,ঐতিহ্যবাহী চাটখিল কামিল মাদ্রাসা একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান।জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪ এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

চাটখিল কামিল মাদ্রাসা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত

নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন সহকারী প্রোগ্রামার,ইউআইটিআরসিই, ব্যানবেইস মো.জহির উদ্দিন।

নারায়নপুর আর কে উচ্চবিদ্যালয়ের কমিটি গঠন,আবু তালেব সদস্য নির্বাচিত

এ সময় বক্তারা আদালতের রায় ও ডাক্তারের চিকিৎসা পত্র বাংলা ভাষায় লিপিবদ্ধ করার জন্য জোরালো দাবি জানান।

চাটখিল কামিল মাদ্রাসায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

Comments are closed.