পাসপোর্ট হয়রানি আর কতদিন

বিশেষ করে মাথায় রাখতে হবে পাসপোর্টের সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহের যোগসূত্রটা। দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখী হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেন সংশ্লিষ্টরা।

145
বাংলাদেশে সাধারণত তিন ধরনের পাসপোর্ট হয়। যথাক্রমে লাল, নীল ও সবুজ মলাটের।

 

কারণ সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্যই পাসপোর্ট প্রাপ্তি হচ্ছে নাগরিকের অন্যতম একটি অধিকার। যে অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের শিকার হচ্ছেন হাজারো—লাখো মানুষ। পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। বিষয়টাকে উন্নীত করার প্রয়াসে সরকার সচেষ্ট হলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা—কর্মচারীর অপকৌশলের কারণে মানুষ হয়রানির কবলে পড়ছে।

তুলনামূলক বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন দালালের দৌরাত্ম্যের কারণে। সেই তুলনায় দেশে অবস্থানরত মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন খানিকটা বেশি। এর প্রথম কারণ হচ্ছে আর্থিক লেনদেন। প্রবাসীদের তুলনায় দেশের মানুষ দালালের হাতে ঝটপট অর্থ ধরিয়ে দিতে পারেন না। ফলে যথাসময়ে পাসপোর্টও আসে না তাদের হাতে।

এখানে বলতে হয় পাসপোর্ট আর দালাল দুটি একই সূত্রে গাঁথা; সমার্থক শব্দের মতোই যেন। ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন ব্যাপারটা কত কঠিন। কত কষ্টে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আর এটি হচ্ছে প্রকৃত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেই। পাসপোর্ট গ্রহণ দুঃসাধ্য না হলেও খুব সহজেও মিলছে না কিন্তু। পদে পদে বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হচ্ছে দেশের নাগরিকদের। দালাল না ধরলে যথাসময়ে পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। কর্মরত অফিসার ফিরেও তাকান না। নানা অজুহাত দেখান, বিভিন্ন ধরনের কাগজ  জমা দেওয়ার ফিরিস্তি দেন। আগেই বলেছি পাসপোর্ট প্রাপ্তি হচ্ছে নাগরিক অধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অধিকার। সেই অধিকার বাস্তবায়নে সরকার ইচ্ছে করলে জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বোধকরি। প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয় পত্রের মতো পাসপোর্ট ঘরে ঘরে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিতে পারে। নিতে পারে পাসপোর্ট ফিও। তবে সেটি যেন হয় সহনীয় মাত্রার ফি। (প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও পাসপোর্ট ফি কমিয়ে দেওয়া উচিত)।

বর্তমানে বিভিন্ন রকম খরচাদি মিলিয়ে এক একটি পাসপোর্ট গ্রহণ করতে প্রায় হাজার পাঁচেক টাকার মতো পড়ে যায়। অবশ্য এটি নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে। আর যদি একটু আর্জেন্ট প্রয়োজন পড়ে তাহলে তো কথাই নেই। এতসব ঝক্কি ঝামেলা পোহানোর কারণে সর্বসাধারণ বিরক্ত হন যেমন, তেমনি ভড়কেও যান। ফলে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দেন অনেকে। আর চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনে পাসপোর্ট গ্রহণ করেন যারা তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা কেমন হতে পারে তা অনুমেয়।

অপরদিকে রোহিঙ্গা বা ভিনদেশিদের এত ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয় না। ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করে কিংবা কেউ কেউ বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হয়ে নাগরিকত্ব সংগ্রহ করে খুব সহজে পাসপোর্ট হাতিয়ে নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তিনি বাড়তি কিছু খরচ করে লোভ ধরিয়ে দিচ্ছেন পাসপোর্ট প্রদানকারীদের। যা পরবর্তীতে দেশের সর্বসাধারণের ওপর বর্তায়। এ বিষয়ে আমাদের আরো সজাগ হতে হবে। পাসপোর্ট গ্রহণের সহজীকরণের পদক্ষেপ নিতে হবে যেমন, তেমনি ভিনদেশিরা বাংলাদেশের পাসপোর্ট যেন কোনো ভাবেই গ্রহণ করতে না পারেন সেই বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে।

এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়, সেটি হচ্ছে হালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের প্রবাসীদের ছোটখাটো ভুলভ্রান্তিগুলোকে অনেক বড় করে দেখছে। এর প্রধান কারণই হচ্ছে ভিনদেশিদের উপদ্রব। তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট হাতিয়ে ওমরা ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে থেকে যাচ্ছেন। সেখানে নানা অপকর্ম করে ধরা পড়লে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিচ্ছেন। কাগজে কলমেও প্রমাণ মিলছে বাংলাদেশি, ফলে এখানে আর সাফাই গাওয়ার মতো সুযোগ থাকছে না। এসব বেশি করছে রোহিঙ্গারা। তারা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে করে অধিক কাজ প্রাপ্তির লোভে নিজেদের শ্রমের মূল্যও কমিয়ে নিচ্ছেন। যাতে করে বাংলাদেশিরাও বাধ্য হচ্ছেন তাদের শ্রমের মূল্য আরো কমিয়ে দিতে। এতে করে বিপাকে পড়ে গেছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। রোহিঙ্গারা সত্যমিথ্যা বলে বিদেশিদের কানভারী করছেন, সেরকম তথ্যও আমরা গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি। অথচ রোহিঙ্গারা যুগ যুগ ধরেই বাংলাদেশে লালিত-পালিত হচ্ছেন; এরপর দেশের পাসপোর্টও হাতিয়ে নিচ্ছেন, বিদেশ গিয়ে বদনামও দিচ্ছেন।

বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের খুব দ্রুত। বিশেষ করে মাথায় রাখতে হবে পাসপোর্টের সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহের যোগসূত্রটা। দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখী হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা প্রথমত, দায়ী করেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দীর্ঘ অস্থিরতার কারণে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুতিসহ আয় কমে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য কম থাকায় প্রবাসীরা অর্থ পাঠাতে গড়িমসি করছেন। তৃতীয়ত, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের ফলে হুন্ডিওয়ালারা অবৈধভাবে প্রবাসীদের নিকটজনের কাছে টাকা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও পাসপোর্ট গ্রহণের হয়রানির কারণেও দ্রুত শ্রমিকরা ভিসা সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
পাসপোর্ট প্রাপ্তির জটিলতা দীর্ঘদিনের হলেও বিষয়টি আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। যদি আমরা মনে রাখতে পারি যে, একটি পাসপোর্ট বিতরণ মানে হচ্ছে একজন বাংলাদেশির বহির্গমনের সুযোগ হওয়া এবং তার মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পৌঁছানো; তাহলেই আশা করি, অতি সহজেই বিষয়টির সুরাহা হয়ে যায়।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও কলামিস্ট 

আরও পড়ুন

বিশেষ মেহমান হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিএম এর নোয়াখালী জেলার সভাপতি ডাঃ এম এ নোমান,চাটখিল কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মেহেদী হাছান রুবেল ভূঁইয়া।

চাটখিলে ডিয়ার ছোয়াদ এজেন্সির হজ্জ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি মো.মেহেদী হাছান (রুবেল ভূঁইয়া) উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে প্রতিষ্ঠানের চলমান উন্নয়ন এবং মাঠ সম্প্রসারণের কাজ সম্পর্কে অবগত করেন এবং মাদ্রাসা ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখান।

চাটখিল কামিল মাদ্রাসার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন-এইচ এম ইব্রাহিম

মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি মো.মেহেদী হাছান রুবেল ভূঁইয়া বলেন,ঐতিহ্যবাহী চাটখিল কামিল মাদ্রাসা একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান।জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪ এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

চাটখিল কামিল মাদ্রাসা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে বাতাসে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে থাকে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লামচর গ্রামের সর্দার বাড়ি সংলগ্ন ডোবায় অর্ধগলিত একটি মরদেহ দেখতে পায় তারা।

চাটখিলে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বেলায়েত হোসেন আশা করেন দলীয় নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সর্বসাধারনের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে চাটখিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

চাটখিলে সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলায়েত এর মতবিনিময়

Comments are closed.