নোয়াখালীর গর্ব জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ঐশীর জন্মদিন

0 67

ঐশী আলোচনায় আসেন ২০১৫ সালে প্রকাশিত তার প্রথম একক ‘ঐশী এক্সপ্রেস’ এ ইমরানের সাথে গাওয়া ‘তুমি চোখ মেলে তাকালে’ গানের মাধ্যমে। মিষ্টি গানের গলা, ফিজিক্যাল গ্লামার, নান্দনিক ভিডিও সব কিছুই ছিল চোখে পড়ার মত। তারপর বেলাল খান ফিচারিং ‘মায়া’তে ঐশীর ব্যতিক্রমী গায়কী আবিস্কার করল শ্রোতারা। ‘দিনে দিনে খসিয়া পরিবে’ ‘কিংবা তোমার দিল কি দয়া হয় না’র দরাজ-রকিং ভোকাল সিক্যুয়াল বজায় থেকেছে ঐশীর গাওয়া ‘দুই কূলে সুলতান’ ও ‘নিজাম উদ্দিন আউলিয়া’ গানেও।
কাজের ধারাবাহিকতা ও মান বজায় রাখার বিষয়ে ঐশী বেশ সচেতন।

সাম্প্রতিক সময়ের সঙ্গীত অঙ্গনের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তিনি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের লাইভ শো, স্টেজ প্রোগ্রামে ফোক ও অন্যান্য গান গেয়ে মাতিয়ে দিচ্ছেন দর্শক-শ্রোতাদের।

ঐশীর গানে শ্রোতারা একটি বিশেষ দিক লক্ষ্য করেন সব সময়। সেটা হল- তার কণ্ঠে রক এ্যান্ড ফোকের এত সুন্দর সমন্বয় দু’একজন ছাড়া আগে কখনও কোন শিল্পীর ক্ষেত্রে দেখা যায়না। বলাবাহুল্য ঐশীর গলা এত উঁচুতে যায় যা সচরাচর কোনো শিল্পীর গায়কীতে চোখে পড়েনা। সুর, তাল, লয় এবং আবেগের তেজে সমন্বয়ে আবেদনসমৃদ্ধ কণ্ঠ তার। সব ধরনের গান শুনতে ও গাইতে ভালবাসেন ঐশী। তবে আধুনিক, নজরুল ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি রক মেলোর প্রতি তার দুর্বলতা একটু বেশি। গায়কীতে তার আইডল গুণীশিল্পী রুনা লায়লা।

২০১২ সালে হৃদয় মিক্স-৩ এ্যালবামের কাজে গুঞ্জন রহমানের লেখা গান ‘দক্ষিণা হাওয়া’ যাতে ঐশী শ্রোতাদের কাছ বেশ সাড়া পেয়েছেন। এ পর্যন্ত ঐশীর প্রকাশিত একক এলবাম পাঁচটি, তন্মধ্যে দুটি ইপি। বেশ কিছু ব্যবসাসফল মিক্সড অ্যালবামেও গেয়েছেন তিনি, তার কণ্ঠে সিঙ্গেল গান প্রকাশিত হয়েছে পঞ্চাশটিরও বেশী, যার সবকটিই পেয়েছে শ্রোতাপ্রিয়তা। নিজের ষষ্ঠ একক ঐশী এক্সপ্রেস-২ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এটি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।

কুমার বিশ্বজিতের সুর ও সঙ্গীতায়োজনে প্রসূন রহমানের কথায় ঐশী প্রথম চলচ্চিত্রে গান করেন। অবতার, পাষাণ, আলতা বাণু, মায়াবতী, গহীন বালুচর, দুলাভাই জিন্দাবাদ, দাগ হৃদয়ে, অন্তর জ্বালা, ‘তুখোড়’ ‘গেম-২’ ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ ‘হারজিত’ ‘ভ্রমর’ সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে গেয়েছেন। সম্প্রতি ‘প্রেমের কিচ্ছা’ শিরোনামে বেলাল খানের সঙ্গে গেয়েছেন ‘সোনার চর’ সিনেমায়, কণ্ঠ দিয়েছেন মাসুদ পথিক পরিচালিত ‘মায়া- দি লস্ট মাদার’ সিনেমায় ‘তুই আমার সাদা বক’ শিরোনামে একটি গানে। অডিও গানে সঙ্গীতচর্চার সাফল্য হিসেবে ‘চ্যানেল আই-সিম্ফনি মিউজিক এ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন ২০১৬ সালে। ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেয়ার জন্য সম্প্রতি পেলেন ভারত বাংলাদেশ ফিল্ম এওয়ার্ড।

নিজের সঙ্গীত ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে ঐশী বলেন, পেশাগতভাবে চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত থাকলেও সঙ্গীত নিজের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। এ কারণে দুটি বিপরীতমুখী বিষয়কে আমি আপন সত্তায় সচেতনে ধারণ করি। মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন ঔষধপথ্য-চিকিৎসা প্রয়োজন তেমনি মনের সুস্থতা তথা চিত্ত বিনোদনের জন্য সুন্দর গানের বিকল্প নেই। তাই আমি সুন্দর গান গাইতে সদা-সচেষ্ট।

তরুণ কণ্ঠপ্রতিভা এবং সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের কারণে ঐশী এখন বাংলাদেশের সঙ্গীতের অন্যতম সম্পদ। তারকাখ্যাতির গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে যদি তিনি নিজের জন্য চর্চা অব্যাহত রাখেন, তবে সে বাংলা গানের সম্পদ, বাংলা গানের শিল্পীদের মধ্যে অনন্য হয়েই থাকবেন এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ঐশীর সঙ্গীত শিক্ষায় হাতেখড়ি তার মা নাসিমা আক্তারের কাছে, বাবা মোঃ আবদুল মান্নানের সার্বক্ষণিক তদারকিতে চলে ঐশীর প্রতিটি কাজ। ক্লাস টু-থ্রিতে পড়া অবস্থায় ঐশী বিটিভি ও এনটিভিতে গান গাওয়া শুরু করেন এবং ফোর-ফাইভে পড়া অবস্থায় স্টেজে পারফর্ম করা শুরু করেন। ঐশীর একাডেমিক সঙ্গীত শিক্ষা শুরু ২০০০ সালে রংপুর শিশু একাডেমিতে সঙ্গীত বিভাগে। অতঃপর ২০০৩-২০০৭ নোয়াখালীর মৌমাছি কচিকাঁচার মেলায় সঙ্গীত প্রশিক্ষক মোঃ শরীফের তত্ত্বাবধানে সঙ্গীতশিক্ষা চলে তার। ২০০৮ থেকে নোয়াখালীর হাফিজউদ্দিন বাহারের কাছে নজরুলগীতি ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগজীবনে এম এইচ শমরিতা মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

আট ডিসেম্বর প্রজন্মের অন্যতম সেরা কণ্ঠশিল্পী ঐশীর জন্মদিনে আমাদের অপার ভালবাসা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।