নোবিপ্রবিতে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় ছাত্রকে হেনেস্থা, অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা

0 ২৭

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক ছাত্রকে ফেসবুকে প্রেমিক-প্রেমিকার ছবি পোস্ট করার অভিযোগে শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে নীল দিঘী পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পরে বিকালে ভুক্তেভোগী ছাত্র ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মাহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি তার সহপাঠীরা জানতে পারলে অজ্ঞান অবস্থায় ওই ছাত্রকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ১১টার পর তার জ্ঞান ফিরে।
হেনেস্তার শিকার ওই ছাত্রের নাম সাব মিয়া সোহেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক একটি ফেসবুক গ্রুপে ফলিত গণিত বিভাগ ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান দূর্জয় ও ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মারিয়াম সিদ্দিকা জেমির যুগল একটি ছবি পোস্ট করে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সোহেলকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে নীল দিঘী পাড়ে আসতে বলে দুর্জয় ও তার সহপাঠীরা। এসময় জেমিও তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।

এসময় সোহেল তার সেই পোস্টের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চাইলেও দূর্জয় ও তার সহপাঠী সোহান (সমাজকর্ম ২০১৮-১৯ বর্ষ), বাংলা বিভাগের তানভীর মাহতাব সামিসহ (বাংলা, ২০১৮-১৯ বর্ষ) ৮/১০ জন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এসময় মারিয়াম সিদ্দিকা জেমি সোহেলকে কান ধরিয়ে হাঁটায় এবং চরমভাবে লাঞ্ছনা করে বলেও জানা যায়। যদিও জেমি সোহেলের ডিপার্টমেন্টের জুনিয়ার শিক্ষার্থী। এদিকে, এ ঘটনায় পরবর্তীতে মাইজদী বিশ্বনাথের মেসে গিয়ে সোহেল আত্মহত্যার চেষ্টা করলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সহপাঠীরা তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাাতলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সাকিবুল হাসান দূর্জয় বলেন, বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য সকাল ১১টায় কয়েকজন মিলে সোহেলের সাথে দেখা করেছি।
এসময় তাকে কোন ধরণের মারধর কিংবা লাঞ্ছনা করা হয়নি বলে জানান দূর্জয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
Loading...