থানার ইফতারে উৎসবের আমেজ
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা উত্তরা। থানা পুলিশকেও থাকতে হয় সর্বদাই ব্যস্ত। কিন্তু শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রথম রমজানে উত্তরা পূর্ব থানায় ইফতারির আয়োজনে ছিল উৎসবের আমেজ। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর এ আলম সিদ্দিকী বাইরের ব্যস্ততার কারণে আজ প্রথম রমজানে অফিসে ইফতার করতে পারবেন বলে আগেই জানিয়েছেন। তাই ডিউটি অফিসারের রুমেই আজ ইফতারির আয়োজন।বিকেল ৬ টার পর থেকেই ডিউটি অফিসরারের রুমে ইফতারির আয়োজন শুরু।
টেস্টি সেলাইন দিয়ে তৈরি হয়েছে শরবত। ইফতারির প্রধান অনুসঙ্গ খেজুর’তো ছিলই। ছোলা-মুড়ি, পেয়াজু, বেগুনি ছাড়াও আনা হয়েছে মাল্টা, আপেল আর শশা। ইফতারির বাজারের সব আয়োজনই সুন্দরভাবে শেষ।তবে বিপত্তি হয়েছে কাঁচা মরিচে। ভুলে বাজারের তালিকায় কাঁচা মরিচ বাদ পড়েছিল। তাই ইফতারের ঠিক আগ মুহুর্তে সেই কাঁচা মরিচ আসলো একই ভবনের দ্বোতলার পুলিশের ম্যাচ থেকে। মুড়ি মেশানোর বড় ডিসও আনা হলো পুলিশেরই এক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে।
থানার প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন সেন্ট্রি আমিনুল ইসলাম। সন্ধার ঠিক আগ মুহুর্তে ভবনের সামনের জাতীয় পতাকা নামিয়ে আনতে আনতে বললেন, ডিউটি থাকলে থানাতেই ইফতার করি প্রতিবছর। আমরা দু’জন পালাক্রমে সেন্ট্রির দায়িত্ব পালন করি। আমি আর অপর জনের নাম কনস্টেবল সাদেক। ইফতারিতে অংশ নিতে তিনিও আসলেন একটু পরেই।
ইফতারির সব আয়োজন সামনে নিয়ে এবার সময়ক্ষণের অপেক্ষা। চেয়ার নিয়ে সবাই বসে গেলেন ডিউটি অফিসারের রুমে। একে একে ১০/১১ জন চেয়ার নিয়ে বসে গেলেন সবাই। সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পর এ যেন এক মহা মিলনের অনুভূতি। ডিউটি অফিসার এসআই মনিয়ারা দক্ষ হাতেই ইফতারি বন্টন থেকে শুরু করে সামাল দিলেন সব কিছু। কেউ বন্টন করলেন শরবত, কেউ বা পানি। আবার কেউ বন্টন করলেন ফলের আইটেম। শুরু হয় রোজাদারের পরিতৃপ্তির ইফতার।
ডিউটি অফিসার এস আই মনিয়ারা নয়া দিগন্তকে জানান, থানায় আমরা যারা ইফতার করি তাদের জন্য আলাদা কোন বাজেট নেই। তবে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এককালিন একটি বাজেট আমাদের বরাদ্দ দেন। এর সাথে আমরা সবাই কিছু কিছু যোগ করে একসাথে ইফতার করি। এটাই আমাদের জন্য একটি আনন্দের বিষয়।
ডিউটি অফিসারের রুমে যখন ইফতারি প্রস্তুত নিয়ে সবাই ব্যস্ত ঠিক তখনই বিভিন্ন স্পটের দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ইফতারি করতে থানা কম্পাউন্ডের দ্বোতলায় নিজ নিজ অফিসে প্রবেশ করলেন এয়ারপোর্ট জোনের পুলিশের সহকারি কমিশনার খন্দকার রেজাউল হাসান পিপিএম, উত্তরা জোনের পুলিশের সিনিয়র সহকারি কমিশনার সচীন মৌলিক, সহকারি কমিশনার মো: ফেরদাউছ হোসেন। প্রথমেই তারা সহকর্মীদের ইফতারির খোঁজ খবর নিলেন। এরপর তারাও ইফতারির প্রস্তুতি নিলেন।
নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে পুলিশের সহকারি কমিশনার খন্দকার রেজাউল হাসান পিপিএম জানান, আমরা সারা দিনই বাইরে ব্যস্ত থাকি। প্রতিটি রোজাদারকে নিরাপদে ঘরমুখী নিশ্চিত করে এবং যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজট নিরসনে কাজ করতে হয়। এরপরে আমরা একসাথে ইফতার করতে চেষ্টা করি।
