জ্বর-সর্দি, শ্বাসকষ্টে কুপোকাত শিশুরা

0 12

জ্বর-সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনিতে কুপোকাত হয়ে যাচ্ছে শিশুরা। এসব রোগ নিয়ে হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছে শত শত শিশু।
মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) ২৫০ শয্যার ফেনী জেনালের হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়-হাসপাতালের ফ্লু-কর্ণার, শিশুবিভাগে কোন শয্যাই খালি নেই। শয্যার অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দা ও করিডোরে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালটির শিশু বিভাগে গিয়ে কথা হয় নার্সিং ইনচার্জ নিলুফা সুলতানার সঙ্গে। তিনি জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৭০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর আগের দিন ছিলো ৮৫ জন, তার আগের দিন ছিলো ৮৩ জন। হাসপাতালের সিনিয়র শিশু কনসালটেন্ট আজিজুর রহমান ও মর্জিনা আক্তার সকালে রোগীদের দেখেছেন। অধিকাংশ জ্বর, কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের রোগী। হাসপাতালটির আরএমও ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ২৬ জনের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই ৫০ জনের ওপরে রোগী ভর্তি থাকে। মৌসুমি জ্বর-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

হাসপাতালটির ফ্লু-কর্ণারে কথা হয় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ শাহরিয়ারের সঙ্গে। তিনি জানান, সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি বহির্বিভাগে ৬০ জন রোগী দেখেছেন। এর মধ্যেই অধিকাংশ শিশু এবং অধিকাংশই জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত।

হাসপাতালের আরএমও ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ফ্লু-কর্ণারে রোগী ভর্তি আছে ৬০ জন। এর মধ্যে ৫৭ জন করোনা সাসপেকটেড, ৩ জন পজিটিভ ও ৪ জন আইসিইউতে রয়েছেন।

হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, জ্বর-সর্দির রোগীর কারণে ঠাঁই নেই হাসপাতালে। রোগীর চাপে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসকদের। বহির্বিভাগে আসা রোগীর অর্ধেকই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে জরুরি বিভাগের সামনে অধীর অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে অভিভাবকদের। অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় মঙ্গলবার শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। এরমধ্যে বেশিরভাগই জ্বর, ঠাণ্ডা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

আকলিমা আক্তার নামে একটি শিশুর মা বলেন, তার ছেলে আদিলের বয়স ১ মাস ১০ দিন। গত ২ দিন দিন ধরে জ্বর থাকায় হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসকরা চিকিৎসা করলেও হাসপাতালে কোন শয্যা খালি না থাকায় ছোট বাচ্চাটিকে নিয়ে করিডোরের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। উম্মে কুলসুম নামে আরেক মা জানান, তার মেয়ে উম্মে হাবিবা (৪) গত ১৫ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। উপায়ান্তর না দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
ওহিদুল আলম নামে আরেক বাবা তার মেয়ে মরিয়মকে (৫) নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আজ ২ দিন। তার মেয়েও জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। চিকিৎসার পর এখন একটু ভালো আছে।
এসব বিষয়ে কথা হয় ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সেলিম চিশতীয়ার সঙ্গে।

তিনি জানান, কোন একটা ফ্লু ভাইরাস যাচ্ছে, এর কারণে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত গরম, একটু একটু ঠাণ্ডা সব মিলিয়ে মৌসুম পরিবর্তনের কারণে বাচ্চারা জ্বর, সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ প্রয়োগেই বাচ্চারা সেরে উঠবে। এছাড়া ডায়াজিপাম জাতীয় ওষুধ প্রয়োগেও বাচ্চারা সেরে উঠছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।