জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা, পরে মৃত্যুর অভিযোগ

চাটখিল উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

0 481

নোয়াখালী চাটখিল উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে সফিকুল ইসলাম মিলন এর স্ত্রী সিজারিয়ানের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম দেয়। পরে নবজাতকে মৃত বলে পরিত্যক্ত একটি বিস্কুটের কার্টুনে বারান্দায় ফেলে রাখে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্স। পরে মৃত নবজাতকে দাফনের জন্য বাড়িতে নিয়ে গেলে স্বজনরা দেখতে পায় সে মৃত নয় জীবিত। স্থানীয় চিকিৎসক পরে আবার চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তারা নিশ্বাস নেওয়ার জন্য বুকে চাপ দিলে মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
নবজাতক শিশুটির বাবা সফিকুল ইসলাম জানান, সিজার হওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর ছেলে না মেয়ে হয়েছে কিছুই জানায়নি, তিনি বলেন সিজার করার পরেই চিকিৎসকরা আমার বাচ্চাকে একটি বিস্কুটের কার্টুনে ভরে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রাখে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলোকিত চাটখিল পত্রিকাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শহীদুল আহমেদ নয়ন জানান, ‘বাচ্চাটিকে কয়েকজন ডাক্তার প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা করেও শ্বাসপ্রশ্বাস ও হার্টবিট চালু করতে পারেনি। শেষে ডেথ ডিক্লেয়ার করা হয়েছে। রোগীর আসল গার্ডিয়ান জনাব মাহফুজ, যিনি একজন হেলথ ইনস্পেকটর, তাকে সিজার অপারেশনের সময় যখন বাচ্চা বের করা হয়, তখনই দেখানো হয়েছে যে বাচ্চার সারা শরীরে পায়খানা ও পায়খানাযুক্ত পানি লেগে আছে এবং নাভীর কর্ড পঁচে গেছে। বাচ্চা হয়েছেই মৃত অবস্থায়, হতে পারে সেটা রিসেন্ট ডেথ। তাই একটু দেখতে ফ্রেশ মনে হতে পারে। তবে নবজাতকের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটাকে অন্যভাবে প্রচার করেন।’

তবে নবজাতকের পিতা সফিকুল ইসলাম মিলন এর আবেগময় লেখাটি আলোকিত চাটখিল পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রদ্ধা এবং সালাম নিবেন, আমি সফিকুল ইসলাম মিলন। নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার থানা সদরে অবস্থিত সরকারি হাসপাতালে গত ১৭-০৪-২০১৯ ইং আমার স্ত্রির সিজার করানো হয়। কিন্তু আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না এখানে তারা যে ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে তা একটা নিস্পাপ শিশুর সাথে যায়না। একজন ডাক্তার এবং নার্স কতটা নির্মম হলে ভুল চিকিৎসা করে হত্যার পর ও একটা শিশুর শেষ অবস্থান হয় একটা পরিতেক্ত বিস্কিট এর কার্টুন এ। সাথে সাথে তাকে ফেলে রাখা হয় হাসপাতালের বারান্দায়। আমাদের জানানোর প্রয়োজন ও মনে করেননি কর্তব্যরত ডাক্তার যে আমার কি ছেলে হয়েছে নাকি মেয়ে। মৃত বাচ্চাটিকে বারান্দায় ফেলে রাখতে তাদের একটুও বাধেনা। এমনকি লাশ দেখতে পর্যন্ত দিতে চায়নি তারা আমাদের। অবহেলা অযত্নে আর ভুল চিকিৎসার মাসুল গুনতে হয়েছে আমাদের, সেটা ছবিগুলিতেই ফুটে উঠেছে খুবই নিদারুন ভাবে। জন্মের পরপর ই বাচ্চাকে মৃত ঘোষনা করে চিকিৎসকরা। অথচ তিন চার ঘণ্টা পর বাড়িতে নিয়ে আসার পর বাচ্চাটিকে জিবন্ত অনুভব করি আমরা। সাথে সাথে কমলপুর গ্রামের স্থানীয় চিকিৎসক খবর দেয়া হলে তিনি তাড়াতাড়ি হাস্পাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। দেরি না করে আমরা সাথে সাথে আবার চাটখিল নিয়ে নিয়ে আসি এম্বুলেন্স এ করে। কয়েকজন চিকিৎসক দেখার পর বুকে চাপ দিলে বাচ্চার মুখ থেকে রক্ত বের হয়ে যায়। ঠিক তখনি আমার বাচ্চা প্রানহিন হয়ে যায়। এটা কে খুন ছাড়া আর কি বলা যায়? একটা শিশু সুষ্ঠু চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখে আজকের এই বাংলাদেশ এ। জনগনের টাকায় ভর্তুকি পেয়ে যারা ডাক্তারি পড়ে, যাদের বেতন হয় জনগনের টাকায় সেই মানুষগুলি জনগনের রক্ষক নাহয়ে তারা পরিনত হচ্ছে ভক্ষক এ। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি আপনি এই বিষয় গুলির প্রতি আপনার দৃষ্টি এড়াবেন না। কোন মায়ের বুক আপনি এভাবে খালি হতে দিবেন না। কোন বাবাকে এতটা অসহায় হতে দিবেন না। কপালের লিখাটা মানুশ মেনে নিতে পারে কিন্তু চক্রান্ত মানুষ মেনে নিতে পারেনা। একজন মায়ের বুক খালি করলে তার কতটা কষ্ট হয় একজন নারী হয়ে সেটা অনুভব করার ক্ষমতা আপনার আছে। একজন অসহায় বাবা হয়ে একজন মায়ের কাছেই আমি আমার সন্তান হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আশা করি আপনার গৃহীত পদক্ষেপ এর পর এসকল অমানবিক ঘটনা গুলির অবসান ঘটবে চিরতরে। জননেত্রি আপনার পাশাপাশি আমি আমার এলাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুশের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছি – আপনারা এই অন্নায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হোন। আমি একা কিছুই করতে পারিনি, সবাইকে সান্তনা দিতে দিতে আমার মন টাও অশান্ত হয়ে উঠেছে। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যেন আর কার সাথে না হয়, এই দাবিতে আমার সাথে আপ্নারাও শরিক হোন। সবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রি আপনার মাধ্যমে আমি সম্মানিত স্বরাস্ট্র মন্ত্রি, সাস্থ মন্ত্রি, নোয়াখালী-০১ আসনের সম্মানিত এম,পি জনাব এইচ এম ইব্রাহিম সহ সকল স্তরের মানুশের কাছে আকুল আবেদন করছি এই অমানবিক ঘটনার সুস্ঠু বিচার যাতে হয়। আর কারো সাথে যেন এমন ঘটনার পুনরাব্বৃতি না ঘটে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।