চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তৈরি হচ্ছে ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড

সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিমের ব্যক্তিগত উদোগে

যেখানে থাকবে মৃদু উপসর্গের রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা

0 454

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম চাটখিল-সোনাইমুড়ীর জনগণকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন। করোনার কারণে দিন-দিন মৃত্যুহার বেড়েই চলছে। এই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো অক্সিজেন সংকট। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সাংসদ একটি বিশেষ উদ‍্যোগ নিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার করোনা রোগীরা যাতে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন পায় এই উপলব্ধি থেকে নিজস্ব তহবিল হতে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনসহ অত্যাধুনিক ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন যেখানে পুরুষ ও মহিলা রোগীদের বেডগুলো আলাদা থাকবে এবং এর কার্যক্রম আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। উদ্যোগটি সম্পর্কে আলোকিত চাটখিল পত্রিকার পক্ষ থেকে জানতে চাইলে সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম জানান, ‘আসলে এ মহামারীতে সরকারের একার পক্ষে সব কিছু করা সম্ভব নয়, সকল জনপ্রতিনিধিদের এভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আর ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ডের কাজ শুরু হবে বৃহস্পতিবার এবং কাজ শেষ হতে সময় লাগবে সপ্তাহ খানেক। আমি মনেকরি চাটখিল-সোনাইমুড়ীর জনগণ এতে কিছুটা হলেও উপকৃত হবে।’

এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলাকার জনগণের উদ্দেশ্যে দেয়া তাঁর স্টেটাসটি হু-বহু তুলে ধরা হলো :

সমগ্র বাংলাদেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, আমার নির্বাচনী এলাকায়ও এই সংক্রমণের হার বাড়ছে। যার ফলে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল গুলোতে তৈরী হয়েছে বেড সংকট, অক্সিজেন সংকট। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু এই আইসোলেশনে যাদের মৃদু মানের উপসর্গ আছে তাদের সেবা দেয়া সম্ভবপর। যাদের মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গ এবং সবসময় অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন হয় তাদের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে প্রেরণ করা হতো। বর্তমানে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল গুলোতেও এখন আর স্থান সংকুলান হচ্ছে না।

এই মূর্হুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করে তাতে প্রয়োজন বোধে মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গের করোনা রোগীদের জরুরি অক্সিজেন সরবরাহের নিশ্চয়তা এখন সময়ের দাবী। যদি এই ব্যাবস্থা করা যায় তবে তা হবে সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারে ২০০০ লিটার অক্সিজেন থাকে। মাঝারী ধরনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এমন করোনা রোগীকে মিনিমাম ৩-৪ লিটার অক্সিজেন প্রতি মিনিটে দিতে হয় এবং এটা তীব্রতা অনুযায়ী ৬-১০ লিটারও দেয়া লাগে…যার জন্য রোগীর আইসিউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। একজনের জন্য যদি মিনিমাম মিনিট প্রতি ৩ লিটারও লাগে, তবে ২০০০ লিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার শেষ হতে বেশী সময় লাগেনা। এতে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা দূরহ হয়ে পড়ে এবং একটা শেষ করে আরেকটা প্রস্তুত করা ঐ সময়ে সময়সাপেক্ষ ও রোগীর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। আর রোগীর সংখ্যা যদি একের অধিক হয় তবে ব্যাপারটা কতটা দূরহ তা অনুমানের অপেক্ষা রাখেনা।

তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাঝারি উপসর্গের করোনা রোগীদের প্রধান অন্তরায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন না থাকা। এখন পর্যন্ত কোন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ব্যাবস্থা নাই। কিন্তু সময়ের দাবীতে এটা প্রস্তুত করতে পারলে একদিকে যেমন কিছু প্রাণ বেঁচে যেতে পারে, তেমনি জেলা বা শহর পর্যায়ের ডেডিকেটেড হাসপাতাল গুলোতেও চাপ কমবে।

আমার নির্বাচনী এলাকার করোনা রোগীরা যাতে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন পায় এই উপলব্ধি থেকে আমার নিজস্ব তহবিল হতে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সহ অত্যাধুনিক ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করার এই উদ্যোগটি আমি হাতে নিয়েছি যেখানে পুরুষ ও মহিলা রোগীদের বেডগুলো আলাদা থাকবে এবং এর কার্যক্রম আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য নোয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব তন্ময় দাস, সিভিল সার্জন জনাব ডা. মোমিনুর রশিদ, চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব দিদারুল আলম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সহ অত্যাধুনিক ১০ শয্যার যে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরী করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে তাতে ৮টি সিলিন্ডার থাকবে, যার এক একটির ধারন ক্ষমতা ২৮,৮০০লিটার। এর ফলে ১০টি শয্যার ১০জন মাঝারি উপসর্গের করোনা রোগীকে সর্বাধিক ৬লিটার অক্সিজেন মিনিট প্রতি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা যাবে। এতে করে বেঁচে যেতে পারে একটি প্রান, বেঁচে যেতে পারে একটি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন, টিকে থাকবে একজন সন্তানের মা-বাবা বলে ডাকতে পারার আনন্দ, টিকে থাকবে প্রিয়জনের হাঁসিমাখা মুখ, সর্বোপরি জয় হবে মানবতার। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এইটুকুই আমার আনন্দ।

সবশেষে বলবো সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, ঘরে থাকুন, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন এবং নিরাপদে থাকুন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।