গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের ক্রিম অয়েন্টমেন্ট তৈরির প্রযুক্তি কিনেছে চাটখিলের প্রতিষ্ঠান ডিবিএল ফার্মা

0 ৪১

সম্প্রতি বন্ধ ঘোষিত গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের চট্টগ্রামের ওষুধ কারখানায় ব্যবহৃত ক্রিম ও অয়েন্টমেন্ট জাতীয় ওষুধের উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের বেশ কিছু সরঞ্জাম কিনে নিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে নতুন প্রতিষ্ঠান ডিবিএল ফর্মাসিউটিক্যালস।

বেটনোভেট, নিওবেক্রিনসহ বেশ কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধ তৈরিতে জিএসকে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করত। চুক্তির বিষয়ে গত ২২ ডিসেম্বর ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়।

দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপ তাদের রফতানিমুখী পোশাক শিল্প এবং সিরামিক শিল্পে সাফল্যের হাত ধরে ওষুধ শিল্পে বিনিয়োগ করছে। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে গাজীপুরের কাশিমপুরে সম্পূর্ণ ইউএস এফডিএ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নির্মাণাধীন ডিবিএল ফার্মার কারখানাটি আগামী বছরের শেষ নাগাদ ওষুধ উৎপাদন শুরু করবে। প্রায় ১০ একর জমির ওপর এ প্রকল্পটিতে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ, ইনজেকশন, ইনহেলারসহ প্রায় সব ধরনের ওষুধ উৎপাদনের লক্ষে অত্যাধুনিক ইউরোপীয় সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি জিএসকের বন্ধ হয়ে যাওয়া জনপ্রিয় চর্মরোগের বিকল্প ওষুধ একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবারও এদেশের রোগীদের মাঝে পৌঁছে দিতেই নতুন এই চুক্তি।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ থেকে এর ওষুধ ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে বেটনোভেট, ডার্মোভেট, ব্যাকট্রোব্যান এর মতো জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ক্রিম ও অয়েন্টমেন্ট জাতীয় ওষুধগুলো আর বাজারে পাওয় যাচ্ছে না। জিএসকে এবং ডিবিএল এর মধ্যে উৎপাদন সরঞ্জাম হস্তান্তরের এই চুক্তির ফলে গ্লাক্সোর মতো হুবুহু একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিবিএল ক্রিম-অয়েন্টমেন্ট উৎপাদন ও মান-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগীদের সরবরাহ করতে পারবে।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ডিবিএল গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান ডিবিএল ফার্মাসিউটিক্যালস বর্তমানে কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মাধ্যমে মেথোকারবামল গ্রুপের ২টি জেনেরিক ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে বাজারজাত করছে। কাশিমপুরের উৎপাদন কারখানাটি সক্রিয় হলে বাংলাদেশে উৎপাদন করে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ওষুধ রফতানি করার বিষয়ে ডিবিএল ফার্মা আশাবাদী।

এখানে উল্লেখ্য যে, ডিবিএল গ্রেুপ মালিক পক্ষের বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার কামালপুর গ্রামে। বাবার দেয়া ৬০ লাখ টাকার পুঁজি চার ভাইয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আজ ৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
Loading...