নোয়াখালীতে ওবায়েদ উল্যা মেমোরিয়াল হাইস্কুলের সূবর্ণ জয়ন্তী পালন

0 201

নোয়াখালী সদর উপজেলার সল্যাঘটাইয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ওবায়েদ উল্যা মেমোরিয়াল হাইস্কুলের সূবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বিদ্যালয়ের এ‍্যালামনাই এসোসিয়েশনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

উৎসবটির আয়োজন করে বিদ্যালয়ের এ‍্যালামনাই এসোসিয়েশন। সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওবায়েদ উল্যা মেমোরিয়াল হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শরীফ উল্যা বাহার। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সাভাপতি গোলাম জিলানী দিদার।

সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে দিনব্যাপী নানান কর্মসূচীর মধ্যে ছিল প্রাক্তন ছাত্র বনাম বর্তমান ছাত্রদের মধ্যকার প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ, কেক কাটা, আলোচনা সভা, আতশবাজি ও ফানুস উড়ানো।

বিকেল তিনটায় জামিল মিশুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য প্রদান করেন প্রধান অতিথি একেএম সামছুদ্দীন জেহান, বিশেষ অতিথি শরীফ উল্যা বাহার, প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেন, সভাপতি গোলাম জিলানী দিদার, প্রাক্তন শিক্ষক আবু জাহের, প্রাক্তন ছাত্র আকতার রশিদ মুন, মুজিবুর রহমান, ৯৯ ব্যাচের আবুল হোসেন বিপ্লব ও স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট সদস্য মেহেদী হাসান।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন ‘শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর, তাই শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান জরুরি, বর্তমানে আমরা ডিজিটাল যুগে আছি তাই সব কিছু হাতের নাগালেই পাচ্ছি কিন্তু যখন ডিজিটাল প্রযুক্তি কিছুই ছিলোনা তখন কত কষ্ট করে এই শিক্ষকরা তাদের ছাত্রদের পড়িয়েছেন শিখিয়েছেন, স্কুলের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন, অথচ তখন বেতনও ছিলো কম।

তিনি আরো বলেন, একটি সমাজ তখনই উন্নত হয়, যখন সেখানে শিক্ষিত আলোকিত মানুষ থাকে। আমরা যদি প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করি তবে আমাদের সমাজে জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস ও বেকারত্ব থাকবে না।

বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা অর্জন করতে পারতাম না। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হতে পারতাম না আপনারা শিক্ষকরা এখানে চাকুরির সুযোগ পেতেন না। জাতির পিতা যে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন তা বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ অতিথি শরীফ উল্যা বাহার তার বক্তব্যে স্কুলটির সূচনা লগ্ন থেকে যাদের অবদান ছিলো পর্যায় ক্রমে তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন।বক্তারা এসময় বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ওয়াহেদ উল্যা বাবু সাহেবকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।

আলোচনা সভা শেষে এলামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। সন্ধ্যায় আতশবাজি ও ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের উদযাপন শেষ করা হয়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।