আনোয়ার হোসেন: ক্ষণজন্মা এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায়

0 159

আপনাকে বিদায় বলাটা কঠিন, বিদায় বলা ঠিক কিনা সেটাও এই মুহূর্তে মাথায় কাজ করছে না। তবুও চিরবিদায় আনোয়ার হোসেন।

এক জীবনে বিএনপি আর চাটখিলবাসীকে যা দিয়ে গেলেন তার জন্য চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

আপনার সাথে সম্পর্কটা সেই দীর্ঘদিনের,স্মৃতিগুলো প্রতিনিয়ত তাড়া করে, বিশেষ করে ঢাকা শান্তিনগর বিসমিল্লাহ্‌ হোটেল, নওয়াবপুর, মাইজদি কোর্টে, চাটখিলে কাটানো সময়গুলো আজ বড্ড বেশি মনে পড়ছে।

মানুষ আপনাকে কি পরিমাণ ভালোবাসে এটা এতোদিন চলার পরও পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও আপনি ঠিক বুঝতেন মানুষের ভালোবাসা। তাই তো বিরামহীন হাসিমুখে তাদের জন্য কিছু করতে পারা, দলের জন্য কিছু করতে পারায় পরম আনন্দ খুঁজে নিতেন।

আপনার অনুপস্থিতিতে ঠিক দেখতে পাচ্ছি মানুষ আপনাকে কতটা ভালোবাসে, আপনি দেখছেন না, অথচ সবাই আজ আপনার জন্য অশ্রুসিক্ত, শোকে কাতর। এটাই তো জীবনের স্বার্থকতা, নিখাদ ভালোবাসা। চাটখিলের বাতাসে কানপাতলে আপনার শূণ্যতার হাহাকারে মাতম শুনা যায়।

আনোয়ার হোসেন : চাটখিল উপজেলায় যে কয়জন সর্বজন স্বীকৃত পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম। সজ্জন, মেধাবী এই রাজনীতিক স্যোসাল মিডিয়ায়ও সমানভাবে প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

বর্তমান মহাবিশ্বে মহামারি করোনার প্রকোপে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়লে চাটখিলের মানুষের পাশে দাড়ান তিনি,ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, অসহায়দের জন্য খাদ্যসহায়তা, করোনা থেকে বাঁচতে নিয়মিত মানুষকে শুরু থেকেই সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া তিনি সবাইকে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অসহায়দের পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, চাটখিল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। নানা আন্দোলন সংগ্রামে দলের জন্য ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। কর্মীবান্ধব এই নেতার সংগঠক হিসেবে যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ, গতকাল (১৬/০৫/২০২০ইং) ভোররাত আনুমানিক ৫.৩০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ইন্তেকাল করেছেন… [ইন্নালিল্লাহেওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন]

ক্ষণজন্মা এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায়ে চাটখিল উপজেলায় দলমত নির্বিশেষে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। চাটখিল এবং নোয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূণ্যতা তৈরি হয়েছে তা নিঃসন্দেহে অপূরণীয়। তবুও মৃত্যুে কারো হাত নেই; অকাল মৃত্যু বলেও কিছু নেই, সব মৃত্যুই সুনির্দিষ্ট। এই চরম সত্যটা আমাদের মেনে নিতে হয়।

মানুষ হিসেবে ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক জীবনে সবাইকে খুশি করা কারো পক্ষেই কখনো সম্ভব হয় না। আমরা দোয়া করি মহান আল্লাহ্ তায়ালা যেন তাকে ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন এবং যেকোন উছিলায় তাকে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদাদান করেন- আমিন।

সব বিদায় বিদায় নয়; আপনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।