অবারো এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর গুজব, মেয়ে যা বললেন…

0 279

আবারও এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর গুজব উঠল। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চারদিকে বেশ হই চই পড়ে যায় তার মৃত্যুর গুঞ্জনে। তবে এই গুণী অভিনেতার পরিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছন এটিএম শামসুজ্জামানের অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

এটিএম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল বলেন, ‘এটা একটা ভুয়া নিউজ।

এটা ফেসবুকে কারা ছড়িয়েছে জানি না। এর আগেও আমার বাবার মৃত্যুসংবাদ এভাবে ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে, তখন আমার বাবা হাসতেন আর বলতেন, ‘এদের জন্য আল্লাহ মনে হয় আমার হায়াত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এবারও যারা এ রকম খবর ছড়াচ্ছেন, আমরা মনে করি, তাদের মাধ্যমে হয়তো আল্লাহ আমার বাবার হায়াত বাড়িয়ে দেবেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। তার অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল আছে। ’
উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে বিদেশে নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন মাত্র। এখন একটু টায়ার্ড আছেন। আজকেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া আঙ্কেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আর ডা. সামন্তলাল আংকেল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা করানো হবে।
উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বরেণ্য অভিনয় শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। ৩ মে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি হাসপাতাল থেকে বাসায় নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তিন দিন ভালো থাকার পর আবার অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. রাকিব উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চলছে এই গুণী অভিনেতার চিকিৎসা।

এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন পুরান ঢাকার দেবেন্দ্রেনাথ দাস লেনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিনেমায় পা রাখেন। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা। এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন।

অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এরপর রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’তে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রের অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।